ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের টেস্ট প্রধান কোচের পদ থেকে সরে যেতে হচ্ছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হিসেবে আপাতত দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।
ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড জানান, টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাশিত ফল না আসায় এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় টেস্ট দলের দায়িত্বে ম্যাককালামকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ডের টেস্ট দল শুরুতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে প্রশংসা কুড়ালেও শেষ দিকে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। সর্বশেষ নয়টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই পরাজয়ের মুখ দেখেছে দল। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে পরাজয় এবং পরে নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
শুধু মাঠের ফলই নয়, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও আলোচনায় উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটারদের মদ্যপান সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে কারফিউ ভেঙে গভীর রাতে লন্ডনের একটি বারে যাওয়ার ঘটনায় তৎকালীন অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং ফাস্ট বোলার গাস অ্যাটকিনসনকে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। মাঠের বাইরের এসব ঘটনা দলের পরিবেশ ও পারফরম্যান্স—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসিবির প্রকাশিত বিবৃতিতে ম্যাককালাম বলেন, টেস্ট দলের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। দলের সঙ্গে কাটানো সময় এবং অর্জনগুলো নিয়ে তিনি গর্বিত। একই সঙ্গে এই দায়িত্ব ছাড়তে হওয়ায় নিজের হতাশার কথাও জানান। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি কষ্টের হলেও বোর্ডের অবস্থানকে তিনি সম্মান করেন।
ম্যাককালামের টেস্ট কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ ছিল ট্রেন্ট ব্রিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্ট। সেই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক বেন স্টোকস। ফলে এক ম্যাচেই ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
২০২২ সালে টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ম্যাককালাম ও স্টোকসের জুটি ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে নতুন এক দর্শনের সূচনা করেছিলেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, ইতিবাচক মানসিকতা এবং দ্রুত ফল বের করে আনার কৌশল দলটিকে নতুন পরিচয় দেয়। তাদের অধীনে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে আলোচনায় আসে ইংল্যান্ড। পাকিস্তান সফরে একদিনেই ৫০০ রান করার কীর্তি সেই আক্রমণাত্মক দর্শনের অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৩ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজও ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। পাঁচ ম্যাচের সেই লড়াই ২-২ সমতায় শেষ হলেও ইংল্যান্ডের ইতিবাচক ক্রিকেট দর্শন ব্যাপক প্রশংসা পায়। তবে পরবর্তীতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে একই কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়ে দল। উভয় দেশেই ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হার প্রমাণ করে যে ভিন্ন পরিবেশ ও প্রতিপক্ষ অনুযায়ী কৌশলে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন ছিল।
ইংল্যান্ড এখন নতুন করে টেস্ট দল গঠনের পথে হাঁটছে। সামনে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। তার আগেই নতুন টেস্ট প্রধান কোচ এবং নতুন অধিনায়ক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইসিবি। ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দলকে নতুনভাবে গুছিয়ে তোলাই এখন বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য।
![টেস্ট কোচের পদ হারালেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম 1 টেস্ট কোচের পদ হারালেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://bn.cricket.sportsgoln.com/wp-content/uploads/2026/07/টেস্ট-কোচের-পদ-হারালেন-ব্রেন্ডন-ম্যাককালাম.jpg)