মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) নির্বাচনে অজিঙ্কা নায়কের পুনর্জয় নিয়ে ক্রিকেট মহলে দুই ধরনের মতামত দেখা যাচ্ছে। একদল মনে করছে—নায়কের দ্বিতীয় মেয়াদ মুম্বাই ক্রিকেটের জন্য সৌভাগ্যময়। অন্যপক্ষ বলছে—এটা ‘ক্রিকেটে রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার’। কারণ হিসেবে তারা তুলে ধরছে ফাদনাভিস–শারদ পাওয়ারের সক্রিয় সমর্থন এবং একতরফা জয়ের চিত্র।
নায়ক এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে চমক তৈরি করেছেন। একটি প্রশাসনিক সংস্থা যেখানে হাজারও ক্রিকেট ক্লাব, শতাধিক প্রার্থী, বিসিসিআই-সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বদের সমাগম—সেখানে সভাপতি পদে কোনো বিরোধী না থাকা কি কাকতালীয়? সমালোচকরা মনে করেন, এটা রাজনৈতিক সমঝোতার ফল। তাই নায়কের দায়িত্ব শুধু ক্রিকেট উন্নয়ন নয়, বরং এই সন্দেহ দূর করাও।
প্যানেলের ১৬টির মধ্যে ১২টি পদে জয়ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সহ-সভাপতি হয়েছেন জিতেন্দ্র আওয়াদ, যিনি নিজেও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন উনমেশ খানভিলকর, কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন আরমান মালিক—এদের মধ্যে আবার অনেকে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে যুক্ত।
এবার প্রশ্ন—এই ধারা কি ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ মুম্বাই, কাল হয়তো দিল্লি, কেরালা, পাঞ্জাব—যেখানে ক্রিকেট প্রশাসন রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে।
তবে নায়ক সমালোচনাকে পাত্তা দিতে চান না। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট, “ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থেই সবার সহযোগিতা দরকার। যদি রাজনীতিবিদরা সহযোগিতা করেন, সেটাই উন্নয়নের জন্য ভালো।” নায়কের এই বক্তব্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি—এটা যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি উদ্বেগজনকও। কারণ রাজনীতির শক্তি সুবিধা দিলেও ভবিষ্যতে এর অপব্যবহারও হতে পারে।
অবশ্য নায়কের প্রথম মেয়াদের কাজগুলো প্রশংসার যোগ্য। মুম্বাইয়ের ক্লাব ক্রিকেটে মাঠ উন্নয়ন, জুনিয়র ক্রিকেটারদের ভাতা বৃদ্ধি, উইকেট বৈচিত্র্য আনা—এসব পদক্ষেপ তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তাই অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ রাজনৈতিক প্রভাবে হলেও প্রশাসনিকভাবে সফল হতে পারে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নায়ক কি ক্রিকেট উন্নয়নে রাজনীতির শক্তিকে ব্যবহার করবেন, না ক্রিকেটকে রাজনৈতিক শক্তির সামনে তুলে দেবেন? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো ভারতীয় ক্রিকেট।