অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশ লিগে এমন এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে যা ক্রিকেট ইতিহাসে ‘বৃষ্টির আগেই বৃষ্টি’ নামে জায়গা করে নিতে পারে। অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিডনি থান্ডার জয় থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতেই হঠাৎ ঘোষণা আসে—ম্যাচ পরিত্যক্ত। আশ্চর্যজনকভাবে মাঠে তখন বৃষ্টির কোনও চিহ্নই ছিল না; পিচ শুকনো, আকাশ পরিষ্কার আর দর্শকরা হতবাক হয়ে তাকিয়ে মাত্র এমন এক সিদ্ধান্তের দিকে, যা অনেকের কাছে “মাঠের বাইরে থেকে ম্যাচের রায় করা” বলে মনে হয়েছে।
ম্যাচ শুরুই দেরিতে হয় সকালের বৃষ্টির কারণে, ফলে ম্যাচ কমে দাঁড়ায় পাঁচ ওভারের। ব্যাট হাতে নেমেই থান্ডারের অধিনায়ক ফিবি লিচফিল্ড যেন ঝড় তুলেন। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৩৮ রান, তার মাঝে সাতটি চার ও দুটি ছক্কার তাণ্ডব। সিডনি মাত্র দুই ওভারে পেয়ে যায় ৩৫ রান—একতরফা শক্তির প্রদর্শনী।
২.৫ ওভার শেষে স্কোর ৪৩/০। জয় পেতে প্রয়োজন মাত্র ১৩ বলে ৩ রান। সব উইকেট অক্ষত। ঠিক এই অবস্থায়—উইকেটে ব্যাটার দাঁড়ানো, বোলার তৈরি—এমন সময় আম্পায়ারের নির্দেশ, “ম্যাচ বন্ধ।” কারণ—“বৃষ্টি শুরু হয়েছে!”
তবে ক্যামেরায় দেখা যায় না কোনো বৃষ্টির ফোঁটা। দর্শকরা ছাতা বন্ধ করেই বসা। এমনকি ক্রিকেটারদের পোশাকে কোনো পানির দাগও নেই। তাই প্রশ্ন ওঠে—তাহলে খেলা থামল কেন? এখানে কি ‘শুষ্ক মাঠে বৃষ্টির কাহিনি’?
ফিবি লিচফিল্ড সরাসরি বলেন, “এটা ক্রিকেটের জন্য লজ্জাজনক। জয় থেকে এত কাছে এসে আমাদের এমনভাবে থামিয়ে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।” ধারাভাষ্যকাররাও ক্ষোভ ঢালেন। অ্যালিস্টার নিকলসন বলেন, “এভাবে একটি দলের জয়ের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হাস্যকর।” সাবেক টেস্ট তারকা ক্যালাম ফার্গুসন আরও কঠোর, “ক্রিকেটে এরকম প্রতারণামূলক সিদ্ধান্ত বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।”
এদিকে অ্যাডিলেড অধিনায়ক তালিয়া ম্যাকগ্রা যুক্তি দিলেন, “বল ভেজা ছিল।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—যখন বৃষ্টি নেই, তাহলে বল ভেজা কেন? আম্পায়াররা কি বাস্তব পরিস্থিতির যাচাই করেছিলেন? নাকি টুর্নামেন্টের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল? নাকি কোনো দলকে অসম সুবিধা দেওয়া হলো?