রংপুর রাইডার্স আবারও প্রমাণ করল কেন তারা বিপিএলে নিয়মিতভাবে শিরোপা আলোচনায় থাকে। নিলামের আগে দুই বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন করে তারা আবারও এগিয়ে রাখল নিজেদের। পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবার নতুন মৌসুমকে কেন্দ্র করে শক্তি বাড়ানোর দিকেই মনোযোগ দিয়েছে।
খাওয়াজা নাফে, গতবার চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে খেলা এই বিদেশি ব্যাটার–অলরাউন্ডার এবার রংপুরে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর গত আসরের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে পাওয়ার হিটিং এবং স্পিনের বিরুদ্ধে তার দক্ষতা। অন্যদিকে সুফিয়ান মুকিমের উপস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন কাহিনি লিখতে পারে রংপুরের স্কোয়াডে। আগে কখনও বিপিএলে না খেলায় তাঁর সম্ভাবনা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে একটা অজানা রহস্য তৈরিই থাকছে, যা প্রতিপক্ষ দলগুলোকে চাপে রাখবে।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল নাম হচ্ছে নুরুল হাসান সোহান। কয়েক বছর ধরে রংপুরের প্রতি তার আনুগত্য এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটির ভিত্তি মজবুত করেছে। শুধু তাই নয়—তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন এবং গ্লোবাল সুপার লিগে একই ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ফলে সোহানকে ধরে রাখা ছিল রাইডার্সের জন্য অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।
তবে যেই নামটি সমর্থকদের উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, সেটি হলো মুস্তাফিজুর রহমান। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলে আসা এই তারকা পেসার এবার রংপুর রাইডার্সে নতুন অভিযানে নামছেন। তাঁর কাটার, ডেথ ওভার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রংপুরের বোলিং আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।
এবারের বিপিএল নিলাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩০ নভেম্বর, তবে নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টা থেকে পিছিয়ে করা হয়েছে বিকেল ৪টা। নিলাম ঘিরে বিভিন্ন দলের চিন্তাভাবনা, গোপন কৌশল এবং স্কোয়াড কম্বিনেশনের আলোচনা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রংপুর ইতিমধ্যেই যে প্রস্তুতি দেখাচ্ছে, তা অন্য দলগুলোকে আরও সতর্ক করে তুলেছে।
রংপুর রাইডার্সের এই আগাম দল গঠন তাঁদের স্পষ্ট লক্ষ্যই জানিয়ে দিচ্ছে—তারা এবার শুধু অংশ নিতে নয়, বরং শিরোপা জিততে এসেছে। বিদেশি শক্তি, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে রংপুরের যাত্রা এবার আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী।