দলে নেই উসমান খাজা—এক টেস্টের বিরতিই কি ক্যারিয়ারের শেষ ঝড়?

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে শান্ত সমুদ্রের মতো এগিয়ে চলা উসমান খাজার জীবনে যেন আচমকা এসে পড়েছে ঝড়। কখনও দলের ভরসা, কখনও ব্যাটিং অর্ডারের স্থিতি—এভাবেই দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়াকে সেবা দিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু বয়স বাড়া আর দুর্ভাগ্যজনক চোট যেন একই মুহূর্তে এসে তাঁর পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। গ্যাবা টেস্টে দলে না থাকার ঘোষণায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই কি তবে শেষ দৃশ্য?

পার্থে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার পরই দুঃস্বপ্নের মতো শুরু তাঁর। প্রথম সেশনেই পিঠে টান, ব্যথা বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে যায় যে ইংল্যান্ডের ইনিংসের বড় অংশেই তিনি ফিল্ডিং করতে পারেননি। ওপেনিং করতে না পারা, চার নম্বরে নেমে মাত্র ২ রানে আউট—সব মিলিয়ে খাজার টেস্টটি ছিল ব্যর্থতায় ভরা। দ্বিতীয় দিনের স্লিপে ফিল্ডিং করার সময় দুটি কঠিন মুহূর্ত—একটি ক্যাচ মিস এবং আরেকটি লাফ দিয়ে নিতে গিয়ে আবারও ব্যথা—তাঁর ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই সুযোগেই আলো ছড়ান ট্রাভিস হেড। খাজার জায়গায় ওপেনিংয়ে নেমে যে আগ্রাসী সেঞ্চুরি তিনি করেন, তাতে গ্যাবা টেস্টের আগেই আলোচনার কেন্দ্র পরিবর্তিত হয়। আজ হেডকে ওপেনিংয়ের ভবিষ্যৎ ভাবা হচ্ছে, আর খাজা হাঁটছেন এক অনিশ্চিত পথে।

গ্যাবা টেস্টের ঠিক আগে অনুশীলনে দেখা গেল—খাজা ব্যাট করছেন ঠিকই, কিন্তু শরীরের ভাষায় যেন ক্লান্তি ও চোটের ছাপ স্পষ্ট। নির্বাচকরা তাই ঝুঁকি নিতে চাননি। তাঁকে স্কোয়াডে রেখেও গ্যাবার একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দলে তাঁর জায়গায় কাউকে নেওয়া হয়নি—কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের পথ কি সত্যিই খুলে রাখল?

বয়স এখন প্রায় ৩৯। গত দুই বছরে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতাও নেই। রান পাচ্ছেন কখনো সখনো, গড় কমছে, ইনিংসের শুরুতে লড়াই বাড়ছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে একজন ক্রিকেটার যা সবচেয়ে কম চান—সেই অনিশ্চয়তার মাঝে দাঁড়িয়ে খাজা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন—হেড যদি গ্যাবায় সফল হন, খাজার জায়গা দলে ফিরবে না। নতুন ওপেনারের নাম আসতে পারে বো ওয়েবস্টার বা জশ ইংলিসও। আর খাজার জন্য তখন হয়তো আর কোনো পথই থাকবে না।

তাঁর ক্যারিয়ার কি শেষ? নাকি আরও একবার ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ তৈরি হবে? এই উত্তর সময়ই দেবে। কিন্তু সত্যি বলতে—আজ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে যে দোটানার জন্ম দিয়েছে, তার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে একাই লড়ছেন উসমান খাজা।

মন্তব্য করুন