ভারতীয় ক্রিকেটে যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাস পর মাঠে ফিরে চমৎকার পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। আর সেই পারফরম্যান্সই তাকে ফিরিয়ে আনছে ভারতের টি–টোয়েন্টি দলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের জন্য বুধবার দল ঘোষণা হবে, এবং নির্বাচকদের পরিকল্পনায় হার্দিকের নাম ইতোমধ্যেই নিশ্চিত।
বরোদার হয়ে পাঞ্জাবের বিপক্ষে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির ম্যাচে চার ওভারে ৫২ রান দিয়ে ১ উইকেট এবং ৭৭ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলেন হার্দিক। ম্যাচ জিততে যা প্রয়োজন ছিল, তিনি ঠিক সেটাই করে দেখালেন। জাতীয় দলে ফেরার আগে এমন পারফরম্যান্স নির্বাচকদের আস্থাকে আরও সুসংহত করেছে। এশিয়া কাপে চোট পাওয়ার পর ভারত অনেক ম্যাচ খেললেও হার্দিককে পাওয়া যায়নি। এবার সেই অভাব পূরণ হতে যাচ্ছে।
তবে দলের সহ–অধিনায়ক এবং নির্ভরযোগ্য ওপেনার শুবমান গিলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সবার বড় প্রশ্ন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরে ব্যথা বাড়তে থাকায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার চোট “পিন্চড নার্ভ”, যা সেরে উঠতে সময় লাগে। তাই অন্তত পাঁচ সপ্তাহের বিশ্রাম এবং পুনর্বাসন ছাড়া তার পক্ষে মাঠে ফেরা সম্ভব নয়।
গিল যখন খেলার বাইরে, তখন সামনে এসেছে ওপেনিং পজিশনের প্রশ্ন। অস্ট্রেলিয়া সফরে দলে থাকা সঞ্জু স্যামসন এবং যশস্বী জয়সওয়াল এখন মূল আলোচনায়। স্যামসন ব্যাট করার সুযোগ খুব বেশি না পেলেও তার অভিজ্ঞতা দলকে সাহায্য করতে পারে। আর জয়সওয়াল মাঠে নামলে আক্রমণাত্মক ওপেনার হিসেবে দলকে দেবে দ্রুত রান।
এদিকে তরুণ প্রতিভা রিয়ান পরাগ আলোচনায় উঠে এসেছেন নিজেদের দক্ষতা দিয়ে। অসমের অধিনায়ক হিসেবে তিনি সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দারুণ খেলছেন। পরাগ শেষবার জাতীয় জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন বাংলাদেশ সিরিজে, এবং এবার নতুন করে দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর কাটকে। এর পরে নতুন চন্ডীগড়, ধর্মশালা, লখনৌ এবং আহমেদাবাদে বাকি চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ভারত বর্তমানে টি–টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা পাঁচ নম্বরে। তাই সিরিজটি শুধু প্রস্তুতি নয়—প্রেস্টিজের লড়াইও বটে।
সব মিলিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—হার্দিকের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং গিলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। দুয়ের যোগফলেই নির্ধারিত হবে আসন্ন টি–টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের চূড়ান্ত স্কোয়াড কেমন হবে।