দুই দল নয়, ভারত লড়ছে ভাগ্য বনাম শিশিরের বিরুদ্ধে!

ক্রিকেটে টস ভাগ্যের ব্যাপার—এটা সবাই জানে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট দল যেন ভাগ্য নামক তত্ত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে যাচ্ছে বারবার। সর্বশেষ ২০ ওয়ানডেতে তারা টস জিততে পারেনি। এত দীর্ঘ সময় কোনো ফরম্যাটে টসে এত ব্যর্থতা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। আর ঠিক এই সময়েই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে এসে শিশির হয়ে উঠেছে ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনা।

রাঁচি ও রায়পুরের প্রথম দুই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে গেছে—যে দল টস জিতে পরে ব্যাট করেছে, সে-ই ম্যাচে সুবিধা পেয়েছে। রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সুযোগ পেলেও বড় রান তাড়া করতে গিয়ে চাপের মুখে পড়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে তারা কৌশল কাজে লাগিয়ে সহজেই ৩৫৯ রান তাড়া করে। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে শিশিরের কারণে।

শিশির পড়লে বল এতটাই ভিজে যায় যে বোলারের হাত ফসকে লেন্থ নষ্ট হয়। স্পিনারদের টার্ন প্রায় চলে যায়, তাদের ‘ফিঙ্গার গ্রিপ’ থাকে না। ফলে ইয়র্কার, স্লোয়ার, গুগলি, ব্যাক-স্পিন—সব অস্ত্রই হারিয়ে যায়। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশির থাকলে স্পিনারদের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাই টস হেরে আগে ব্যাট করার মানে হলো বোলারদের হাত বেঁধে দেওয়া।

যেহেতু ভারত টসে জিততে পারছে না, তাই তারা শিশিরের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোশেটের বক্তব্য অনেকেই মজার মনে করলেও বাস্তবে এটি একটি বড় সংকেত। তিনি বলেছেন, “ম্যাচ দুই ঘণ্টা এগিয়ে দিলে শিশিরের প্রভাব কমবে।” তবে বাস্তবতায় তা সম্ভব নয়, কারণ প্রচার, সম্প্রচার, টিভির ব্যস্ততা, দর্শক উপস্থিতি—সবই ম্যাচের সময় নির্ধারণ করে।

এখন ভবিষ্যত প্রশ্ন—ভারত কি টসে হারের পরিণতি বদলাতে পারবে? বিশাখাপত্তমে তৃতীয় ম্যাচে টসে জেতা ভারতের জন্য হয়তো সিরিজ জেতার অর্ধেক পথ পাড়ি দেওয়া। তবে ক্রিকেট কি শুধুই ভাগ্য? কোচের মতো অনেকেরই দাবি—না। সমাধান কৌশলেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি Child of luck নয়, মাঠে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে পারে, তাহলেই জিততে পারবে। এজন্য প্রথম ২০ ওভারে বোলিং অ্যাটাক বাড়াতে হবে, ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারেই রানের গতি বাড়াতে হবে এবং স্পিনারদের ভূমিকা বদলাতে হবে—‘ডট বোলিং’ মনোযোগ বাড়িয়ে।

তাই ভারত এখন লড়ছে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে নয়, ভাগ্য ও শিশির নামক দুই শত্রুর বিরুদ্ধে।

মন্তব্য করুন