একাই নষ্ট করলেন ইংল্যান্ডকে! ব্যাট–বল দুই হাতে অস্ট্রেলিয়ার নায়ক স্টার্ক!

অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে ব্রিসবেনে যেন একাই ম্যাচটিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিলেন মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার প্রথমে বল হাতে নিলেন ইনিংস–সেরা ৬ উইকেট, পরে ব্যাট হাতে খেললেন ৭৭ রানের মূল্যবান ইনিংস। ব্যাট–বল দুই বিভাগেই তাঁর এই অসাধারণ উপস্থিতিতেই অস্ট্রেলিয়ার বিশাল সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫১১ রানে, যার ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৭।

প্রথম দুই দিনেই বোঝা যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত। কিন্তু তৃতীয় দিনে এসে সেটা রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে নবম উইকেটে স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ডের ২৭.২ ওভারের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। শুধু প্রতিরোধ নয়, ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের বোলারদের হতাশাও বাড়িয়েছে এই জুটি। ব্রাইডন কার্সের বলে স্টার্ক আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে এই জুটি ছিল এক ধরনের দুঃস্বপ্ন।

টেস্ট ক্রিকেটে এমন ভরসা জোগানো লম্বা নিম্ন–ক্রমের জুটি খুব ঘন ঘন দেখা যায় না, বিশেষ করে অ্যাশেজে তো আরও কম। বোল্যান্ড অপরাজিত থাকেন ৭২ বলে ২১ রান করে। শেষ ব্যাটার ডগেট করেন ১৩। ফলে অস্ট্রেলিয়া ৫০০ রানের ওপরে গেলেও দলের কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেননি—টেস্ট ইতিহাসে যা মাত্র পঞ্চমবার ঘটল।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পাঁচ ব্যাটার হাফ–সেঞ্চুরি পেলেও কেউ সেঞ্চুরির মুখ দেখেননি। ওয়েদারল্যাড (৭২), লাবুশেন (৬৫), স্মিথ (৬১), ক্যারি (৬৩) এবং স্টার্ক (৭৭)—পাঁচজনই ৬০–৮০ রানের মধ্যে আউট হয়েছেন। ইতিহাস বলছে—টেস্ট ক্রিকেটে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার।

তবে রান পেলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারার পেছনে ইংল্যান্ডের সংগ্রাম ছিল আক্রমণাত্মক লাইন–লেন্থ ধরে রাখা। কিন্তু উইকেট তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় চাপই বাড়তে থেকেছে। উপরন্তু ছোট ছোট পার্টনারশিপ জমতে জমতেই মোট স্কোর চলে যায় ৫০০ পেরিয়ে।

অস্ট্রেলিয়া অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে ৬ ওভারে ৪৫ রান তোলে। এটা অবশ্য আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমা, যেটা টেস্টের স্বাভাবিক খেলার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তবে ১৩২ রানের ঘাটতি কাটাতে ইংল্যান্ডকে শুরুতেই এমন মেজাজে খেলতেই হবে। কারণ সামনে পঞ্চম দিন পর্যন্ত টিকে থাকা, আবার লিড ঘোচানো এবং ম্যাচ বাঁচানো—তিনটিই কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, ১৭৭ রানে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ড দুবার অ্যাশেজ টেস্ট জিতেছে—১৮৯৪ ও ১৯৮১ সালে। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে সেই পুনরাবৃত্তি ঘটানো অত্যন্ত কঠিন।

এই টেস্টের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার নায়ক নিঃসন্দেহে স্টার্ক। তাঁর ফর্মই বলে দিচ্ছে—ইংল্যান্ডের সামনে কঠিন পথ।

মন্তব্য করুন