কোহলির হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরি হয়নি—তবু এমন রেকর্ড করলেন যে বিশ্ব স্তম্ভিত!

ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে শক্তিশালী রানতাড়ার তালিকায় আজ যুক্ত হলো আরেকটি অনবদ্য অধ্যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। ব্যাট হাতে কাঙ্খিত হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরি না পেলেও যে প্রভাব ফেললেন বিরাট কোহলি, সেটিই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর জয়সোয়াল যেন উঠে এসেছেন ভারতের ভবিষ্যৎ ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের অন্যতম নতুন প্রতিশ্রুতি হয়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ২৭০ রানের টার্গেটটা ছিল দেখলে সহজ, কিন্তু বড় ম্যাচ চাপ কখনোই সহজ নয়। তবে শুরু থেকে রোহিত শর্মা আর তরুণ যশস্বী জয়সোয়াল মিলে যে জুটি গড়লেন, তা ভারতীয় দর্শকদের মাঝে এমন আশা জাগায় যে জয়ের পথটা সম্ভবত আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। ১৫৫ রানের দারুণ উদ্বোধনী জুটি ভারতের ভিত্তি মজবুত করে দেয়। রোহিত ৭৫ রানের পর প্যাভিলিয়নে ফিরলেও ততক্ষণে ভারতীয় ইনিংস অগ্রযাত্রায় পুরোপুরি গতি পেয়ে গেছে।

এরপরই আসে সেই মুহূর্ত—বিরাট কোহলি ক্রিজে। বয়স ৩৭ হলেও তাঁর ব্যাটিং যেন এখনো বিশ্বসেরাদের চ্যালেঞ্জ জানায়। ওটনিল বার্টম্যানের বলে দারুণ ছক্কা মেরে ফিফটিতে পৌঁছানোর পর গ্যালারিতে উন্মাদনার ঢেউ ওঠে। দর্শকদের ক্ষীণ আশা ছিল—হয়তো আরও কিছু রান হলে কোহলি আজ হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরিও করতে পারতেন। কিন্তু লক্ষ্য তাড়া ছিল তুলনামূলক কম, ফলে কোহলিকে আক্রমণাত্মক খেললেও নিজের মতো করে ইনিংস সাজাতে হয়েছে। সবশেষে ৪৫ বলে ৬৫* রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও তাঁর ব্যাটে লেখা হয় আরেকটি নতুন রেকর্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই বছর আগে করা ২৮৩ রানের ব্যক্তিগত সিরিজ সর্বোচ্চ পেরিয়ে এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোহলির সংগ্রহ ৩০২।

কোহলির সঙ্গে মাঠে যাঁর ব্যাট ছিল আরও উজ্জ্বল, তিনি যশস্বী জয়সোয়াল। চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নেমে যে পর Mature ব্যাটিং উপহার দিলেন, সেটি ভারতীয় ক্রিকেটকে ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশ্বাস দিল। প্রথম ৫০ রান তুলতে ৭৫ বল খেললেও তিনি ধীরে ধীরে গতি বাড়িয়ে পরের ৩৬ বলেই পৌঁছে যান দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে। ম্যাচের চাপ, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ—সব মিলিয়ে তার ইনিংস আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কোহলি-জয়সোয়াল যুগলবন্দীতে ভারত ৩৯.৫ ওভারে ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের শুরুটা যদিও আশাব্যঞ্জক ছিল। বিশেষ করে কুইন্টন ডি কক ৮৯ বলে ১০৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেও একা লড়াইয়ে দলকে রক্ষা করতে পারেননি। তার বাইরে আর কেউই ফিফটির দেখা পাননি। ভারতের পেসার প্রসিধ কৃষ্ণা ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে ছিন্নভিন্ন করে দেন।

শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও ভারতের জন্য এই ম্যাচ শুধু জয় নয়—নতুন আত্মবিশ্বাসেরও প্রতিচ্ছবি। তরুণ-অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে ভারতীয় ক্রিকেট যে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াচ্ছে, তা এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করল।

মন্তব্য করুন