অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় চমক দেখাল পাকিস্তান যুব দল। আগের ম্যাচে প্রায় সাড়ে চারশ রানের পাহাড় গড়া ভারতকে এবার মাত্র ২৪০ রানেই অলআউট করে দিয়েছে পাকিস্তানের বোলাররা। ফলে ম্যাচ জিততে হলে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে করতে হবে ২৪১ রান—যা এই উইকেটে চ্যালেঞ্জিং হলেও নাগালের বাইরে নয়।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে পাকিস্তান দল প্রথমে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর ছিল, তা প্রমাণ করে দেয় পাকিস্তানি পেস আক্রমণ। আগের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা ওপেনার সূর্যবংশী আজ একেবারেই ব্যর্থ হন। মোহাম্মদ সায়েমের বলে মাত্র ৫ রান করে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার বিদায়েই ভারতীয় ইনিংসে প্রথম ধাক্কা লাগে।
এরপর অধিনায়ক আয়ুশ মহাত্রে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। ২৫ বলে ৩৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেললেও তাকেও ফেরান মোহাম্মদ সায়েম। একই ওভারে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ভিহান মালহোত্রা (১২) ও ভেদান্ত ত্রিবেদি (৭) সুবিধা করতে না পেরে অল্প রানে আউট হন। একের পর এক উইকেট পতনে ভারতের ইনিংসের গতি পুরোপুরি থমকে যায়।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান অ্যারন জর্জ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এই তরুণ ব্যাটার। ৮৮ বল মোকাবিলা করে ১২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে তিনি করেন ৮৫ রান। কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় বড় সংগ্রহ গড়তে হিমশিম খায় ভারত। এক পর্যায়ে ১৭৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে দলটি।
এই সংকটময় সময়ে নিচের দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কানিশক চৌহান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বল সমান ৪৬ রান করে তিনি ভারতকে লড়াকু সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ৪৬.১ ওভারে ২৪০ রানে অলআউট হয় ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ সায়েম। দুর্দান্ত লাইন ও লেংথে বল করে তিনি শিকার করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন আবদুস সোবহান, যিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া নিকাব শফিক নেন ২টি উইকেট, যা ভারতের মিডল অর্ডার ভাঙতে বড় ভূমিকা রাখে।
এখন সব নজর পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের দিকে। উদ্বোধনী ম্যাচে এমন শক্তিশালী বোলিং পারফরম্যান্সের পর আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান যুবদল কি ২৪১ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পারবে—সেই অপেক্ষাতেই ক্রিকেটপ্রেমীরা।
ম্যাচ সংক্ষেপে (ভারত ইনিংস)
| ব্যাটার | রান | বল | বিশেষ অর্জন |
| সূর্যবংশী | ৫ | – | দ্রুত আউট |
| আয়ুশ মহাত্রে | ৩৮ | ২৫ | আক্রমণাত্মক ইনিংস |
| অ্যারন জর্জ | ৮৫ | ৮৮ | ১২ চার, ১ ছক্কা |
| কানিশক চৌহান | ৪৬ | ৪৬ | লড়াকু ইনিংস |
পাকিস্তানের বোলিং পারফরম্যান্স
| বোলার | উইকেট |
| মোহাম্মদ সায়েম | ৩ |
| আবদুস সোবহান | ৩ |
| নিকাব শফিক | ২ |