মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ টেস্টের চতুর্থ ম্যাচে দীর্ঘদিনের জয়ের খরা কাটানো ইংল্যান্ড দলকে সাহসিকতা, ধৈর্য ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকে বড় কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন দলের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাটার জো রুট। বিপজ্জনক ও চ্যালেঞ্জিং উইকেটে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিকে তিনি ‘ফাস্ট-ফরওয়ার্ড’ টেস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সিরিজের প্রথম তিনটি টেস্টে হারের পর চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪ উইকেটে জয় অর্জন করে। এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শেষ ১৫ বছরে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয় নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুট বলেন:
“উইকেটের কারণে ম্যাচটি খুব দ্রুত এগিয়েছে। তবে আমরা যতটা সম্ভব মানিয়ে নিয়েছি এবং সুযোগ পেলেই সেটার সদ্ব্যবহার করেছি। ব্যাট হাতে সাহস দেখানোই আজকের জয়ের মূল চাবিকাঠি।”
লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুতে আক্রমণাত্মক মনোভাব থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং দলের জন্য সহজ ছিল না। শেষ মুহূর্তে হ্যারি ব্রুক ও জেমি স্মিথের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং ইংল্যান্ডকে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে সিরিজের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১, যা আগামী সিডনির টেস্টে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ইংল্যান্ড সমর্থকদের।
সমর্থকদের ভূমিকার প্রশংসা করে রুট বলেন :
“আমরা যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকেও এত মানুষ আমাদের পাশে এসেছে। তাদের সমর্থন আমাদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।”
তবে রান তাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জ্যাকব বেথেল বলেন :
“চাপের দিনে দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারা আমার জন্য বিশেষ অনুভূতি। পাঁচ নম্বর টেস্ট ক্যারিয়ারে চার নম্বরে নেমে ৪৬ বলে ৪০ রান করা সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গতকাল ও আজ মিলিয়ে প্রায় ৯২–৯৩ হাজার দর্শকের সামনে খেলাটা সত্যিই বিশেষ হয়ে উঠেছে।”
চতুর্থ অ্যাশেজ টেস্টের প্রধান তথ্য :
| তথ্য | বিবরণ |
| ম্যাচ | চতুর্থ অ্যাশেজ টেস্ট, মেলবোর্ন |
| প্রতিদ্বন্দ্বী | ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া |
| লক্ষ্য | ইংল্যান্ড ১৭৫ রান তাড়া করল |
| ফলাফল | ইংল্যান্ড জয়, ৪ উইকেটে |
| সিরিজের স্কোর | ৩–১, ইংল্যান্ড পিছিয়ে আছে |
| প্রধান অবদানকারী | জো রুট, হ্যারি ব্রুক, জেমি স্মিথ, জ্যাকব বেথেল |
| দর্শক সংখ্যা | প্রায় ৯২–৯৩ হাজার |
এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড কেবল সিরিজে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছে না, বরং বিপজ্জনক উইকেটে মানিয়ে নেওয়া, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।