অস্ট্রেলিয়ায় টেস্টের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নেমে নিজেদের শতভাগ প্রস্তুত বলে মনে করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য পেতে হলে সব বিভাগে সমন্বিত পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই। মূল লড়াইয়ে নামার আগে খেলোয়াড়েরা মানসিক ও শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট ও চাঙ্গা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার। পেস, বাউন্স ও কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ সামলে মাঠে সেরাটা দিতে টাইগাররা যেমন ঘাম ঝরাচ্ছেন, তেমনি কৌশলগত নানা দিক নিয়েও কাজ করা হচ্ছে প্রতিদিন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ফিল্ডিং অনুশীলনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন আশিকুর রহমান। তিনি জানান, খেলোয়াড়েরা বেশ কিছুদিন ধরেই কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং দলের উন্নতির গ্রাফ প্রতিদিন ওপরের দিকে যাচ্ছে। লাল বলের খেলায় ম্যাচ জয়ের পেছনে দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ের ভূমিকা কতখানি, তা কারও অজানা নয়। সেই জায়গাটিকে নিখুঁত করতে ফিল্ডিং অনুশীলনে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট পজিশনকে বাড়তি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্লিপ ক্যাচিং, হাই ক্যাচ, ডিপ ফাইন লেগ এবং ডিপ স্কয়ার লেগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রতিদিন নিবিড় অনুশীলন সেশন রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়েরা এসব অনুশীলনে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সাফল্য পাচ্ছেন।

সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন পরিবেশ, বাতাস, পেস ও পিচের অস্বাভাবিক বাউন্সের সঙ্গে দেশের ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। ফিল্ডিং কোচের মতে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই খেলতে যাওয়া হোক না কেন, মূল চ্যালেঞ্জ হলো কত দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া যাচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের প্রত্যেকেই দারুণ ফিল্ডিং করেছেন এবং বেশ কিছু চমত্কার ক্যাচ ধরে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন। কন্ডিশনের বিষয়টি মাথায় রেখেই পরিকল্পনাসূচি তৈরি করে মাঠে নামছে পুরো দল।

পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ মানেই ক্রিকেটারদের চরম ধৈর্য ও মনোযোগের পরীক্ষা। মাঠের ভেতরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনোযোগ ধরে রাখা মোটেও সহজ কাজ নয়। এ প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান তুলে ধরেন যে, টেস্ট ক্রিকেটে কঠিন সুযোগ বা ‘হাফ-চান্স’ প্রতিদিন অগণিত আসে না। দীর্ঘক্ষণ ফিল্ডিং করার সময় হয়ত বেশ কিছুক্ষণ কোনো ক্যাচ বা রানআউটের সুযোগ তৈরি হবে না, তবে হুট করেই একটি সুযোগ চলে আসতে পারে। সেই মুহূর্তটিতে নিখুঁত ক্যাচ ধরে ম্যাচ নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই আসল কৌশল। তাই সুযোগগুলো কীভাবে শতভাগ কাজে লাগানো যায় এবং মাঠের দীর্ঘ সময়ে মনোযোগ যাতে সামান্যতমও বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়ে খেলোয়াড়দের আলাদা পাঠ দেওয়া হয়েছে।

মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই টেস্ট সিরিজ ঘিরে ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক আবহাওয়া বিরাজ করছে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে আশাবাদী বাংলাদেশ দল।

মন্তব্য করুন