১০৩ রান আগলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টিতে ১০৩ রানকে কখনোই স্বস্তিদায়ক সংগ্রহ বলা যায় না। অথচ সেই ছোট পুঁজিই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠল জয়ের ভিত্তি। ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হলেও বোলারদের দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

রান তাড়ায় শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির ছিল না। মাত্র ১০৪ রানের লক্ষ্য পেয়ে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। শুরু থেকেই চাপে পড়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আরব আমিরাত। ৩৮ রানেই তাদের পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। সেখান থেকে আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারও পূর্ণ করতে পারেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৬৯ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। বাংলাদেশ জয় পায় ৩৪ রানে।

ব্যাটিংয়ে শারমিনের লড়াই

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। একদিকে দ্রুত রান তোলার প্রয়োজন, অন্যদিকে উইকেট ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের।

এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি। বড় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন শারমিন।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি করেন ২৩ রান। জুয়াইরা ফেরদৌস ও নাহিদা আক্তার যোগ করেন ১৬ রান করে। তবে ব্যাটিং অর্ডারের অন্যদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অবদান না আসায় নির্ধারিত সময়ে বড় সংগ্রহে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানেই থামে তাদের ইনিংস।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সামনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন সুরক্ষা কোতে। মাত্র ১১ রান খরচ করে তিনটি উইকেট নেন তিনি। ইন্ধুজা নন্দকুমার পান দুটি উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে তাঁরা যে চাপ তৈরি করেছিলেন, সেটি রান তাড়ায় ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিক দল।

বোলারদের দাপটে বদলে গেল ম্যাচ

১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারানোর পরই আরব আমিরাতের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের বোলাররা প্রতিপক্ষকে সহজে রান করার সুযোগ দেননি। পাশাপাশি নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে রান তাড়ার গতি থামিয়ে দেন।

বিশেষ করে রাবেয়া খাতুনের বোলিং ছিল অসাধারণ। ১৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দুজনই নেন দুটি করে উইকেট।

মাত্র ৩৮ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর আরব আমিরাতের সামনে প্রয়োজন ছিল একটি বড় জুটি। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিংয়ের কারণে সেই জুটি গড়ে ওঠেনি। হেনা ১৮ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তীর্থ সতীশ করেন ১১ রান। তাঁদের বাইরে আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

ফলে ৬৯ রানেই থেমে যায় আরব আমিরাতের ইনিংস। বাংলাদেশের ১০৩ রান হয়ে যায় যথেষ্ট।

ছোট পুঁজির বড় শিক্ষা

ম্যাচটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক বাংলাদেশের বোলিং। টি-টোয়েন্টিতে ১০৩ রান নিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়া সহজ নয়। কিন্তু শুরু থেকেই উইকেট নেওয়া এবং রান আটকে রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের বোলাররা চাপটা ধরে রেখেছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগও খুব বেশি দেননি তারা।

এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার ঘটনা নয়, চাপের মধ্যে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সামর্থ্যেরও প্রমাণ। ব্যাটিংয়ে সংগ্রহ কম হলেও বোলিং ইউনিট সেটিকে রক্ষা করেছে। নকআউট পর্বে যাওয়ার আগে এই আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। ফলে আরব আমিরাতের বিপক্ষে পাওয়া জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের দুর্বল জায়গাগুলোও দ্রুত ঠিক করতে হবে বাংলাদেশকে।

বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১০৩ রানের মতো সংগ্রহ যথেষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটারদেরও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। শুরুতে উইকেট ধরে রাখা, মাঝের ওভারে রান বাড়ানো এবং শেষ দিকে কার্যকরভাবে ইনিংস শেষ করা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্য সেমিফাইনালে ১১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ ফাইনালের লড়াইয়ে যাওয়ার আগে বাংলাদেশকে পেরোতে হবে ভারতের কঠিন বাধা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১০৩ রান নিয়ে পাওয়া জয় তাই বাংলাদেশের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের মুহূর্ত। ছোট পুঁজিকে বড় করে তুলেছেন বোলাররা। এখন সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ভারতের বিপক্ষে আরও বড় লড়াইয়ের অপেক্ষা।

সেমিফাইনালের সূচি

১০ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম ভারত
১১ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা

মন্তব্য করুন