জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করলেন ব্রেন্ডন টেলর। হারারেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
টেলরের এই অর্জন এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দশকেরও বেশি সময় পার করার পর। ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল তার। সেই শুরু থেকে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি একসময় নেতৃত্বের দায়িত্বও সামলেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মঙ্গলবারের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের একাদশে জায়গা পান টেলর। মাঠে পা রাখার মুহূর্তেই তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি দাঁড়ায় ২২ বছর ১৪৭ দিনে। এর ফলে শচীনের ২২ বছর ৯১ দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি।
শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে। ২০১২ সালের মার্চে তিনি শেষ ওয়ানডে খেলেন। দীর্ঘ ২২ বছর ৯১ দিনের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে শচীন এমন এক রেকর্ড গড়েছিলেন, যা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অক্ষত ছিল। টেলরের প্রত্যাবর্তন সেই রেকর্ডের নতুন মালিক তৈরি করল।
তবে টেলরের এই রেকর্ড কেবল সময়ের হিসাবে একটি সংখ্যা নয়। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন। কঠিন সময়ে দলের হয়ে দায়িত্ব নেওয়া, বড় ইনিংস খেলা এবং নেতৃত্ব দেওয়া—সব মিলিয়ে দেশটির ক্রিকেটে তার প্রভাব বেশ বড়।
ওয়ানডেতে টেলরের পরিসংখ্যানও তার অবস্থানকে স্পষ্ট করে। এখন পর্যন্ত ২০৭টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। এতে ১১টি সেঞ্চুরি ও ৩৯টি হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে করেছেন ৬ হাজার ৭০৪ রান। তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ১৪৫ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডও রয়েছে তার দখলে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর আবার দেশের হয়ে ওয়ানডেতে ফেরাটাও টেলরের ক্যারিয়ারে বিশেষ ঘটনা। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসে এমন একটি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক হওয়া তার প্রত্যাবর্তনকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
অবশ্য দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের রেকর্ডে শচীনকে ছাড়ালেও ওয়ানডের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে টেলর এখনো অনেক পিছিয়ে। সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা এবং সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ—দুটি বিশ্ব রেকর্ডই শচীনের দখলে। ভারতের হয়ে ৪৬৩টি ওয়ানডে খেলে তিনি করেছেন ১৮ হাজার ৪২৬ রান। এই দুই অর্জন ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, টেলরের ২০৭ ম্যাচে ৬ হাজার ৭০৪ রান। অর্থাৎ তার নতুন রেকর্ডটি মূলত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্থায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। ম্যাচসংখ্যা কিংবা রান সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি শচীনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়।
টেলরের সামনে এখন রেকর্ডটি আরও দীর্ঘ করার সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচেও যদি তিনি মাঠে নামেন, তাহলে দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ব্যবধান আরও বাড়বে। প্রতিটি ম্যাচে অংশগ্রহণের সঙ্গে নতুন রেকর্ডটি আরও শক্তিশালী হবে।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকেও ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে টেলর ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার প্রত্যাবর্তন তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও অভিজ্ঞতার একটি বড় উৎস হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার যে মানসিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রয়োজন, টেলরের ক্যারিয়ার তারই একটি দীর্ঘ উদাহরণ।
২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২২ বছরের বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারারেতে এসে সেটিই নতুন বিশ্ব রেকর্ডে পরিণত হলো। শচীন টেন্ডুলকারের দীর্ঘদিনের রেকর্ড পেছনে ফেলে ব্রেন্ডন টেলর এখন পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের মালিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘস্থায়িত্বের এই কীর্তি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ সংযোজন।