ব্যাট হাতে তাঁর আগ্রাসী মানসিকতার পরিচয় আগেও মিলেছে। তবে ব্লুমফন্টেইনে সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে লুয়ান-দ্রে পিটোরিয়াস যা করলেন, সেটি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে তো বটেই, টি-টোয়েন্টির বিশ্ব রেকর্ডের পাতাতেও আলাদা করে জায়গা করে নিল।
নাইটসের বিপক্ষে টাইটানসের হয়ে মাত্র ৭৯ বলে ১৮৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ২০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর ব্যাটে ছিল ১৫টি চার ও ১৩টি ছক্কা। এই ইনিংসের সুবাদে ছেলেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্ব রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন পিটোরিয়াস। এতদিন রেকর্ডটি ছিল ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের দখলে।
২০১৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৬৬ বলে অপরাজিত ১৭৫ রান করেছিলেন গেইল। সেই ইনিংস দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে টি-টোয়েন্টিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মাপকাঠি হয়ে ছিল। এবার ১৩ রান বেশি করে সেই রেকর্ড পেছনে ফেললেন পিটোরিয়াস।
তবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার রাতেও আক্ষেপ থাকার কথা পিটোরিয়াসের। ১৮৮ রানে থামায় টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। অর্থাৎ মাত্র ১২ রান দূরে থেকে থামতে হয়েছে তাঁকে। যদিও ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলের বড় জয়েও তাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।
পিটোরিয়াসের ব্যাটিংয়ের গতি ছিল শুরু থেকেই চোখে পড়ার মতো। ২৪ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। এরপর মাত্র ১৬ বলের ব্যবধানে পৌঁছে যান শতরানে। ১৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ৫৮ বলে। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ১৮৮ রানের ইনিংসটি সাজিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে টাইটানস ৩ উইকেটে ২৬৭ রান সংগ্রহ করে। সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। প্রতিযোগিতাটিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও টাইটানসের—৩ উইকেটে ২৭১ রান। জবাবে নাইটসের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৪৩ রানে। ফলে ১২৪ রানের বড় জয় পায় টাইটানস।
২০২৬-২৭ মৌসুমে এটি ছিল পিটোরিয়াসের প্রথম ম্যাচ। তবে এর আগেও ব্যাট হাতে ভালো ছন্দে ছিলেন তিনি। গত মাসে নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৯৪ ও ১০১ রানের দুটি ইনিংস। সেই ধারাবাহিকতাই টাইটানসের হয়ে আরও বিস্ফোরক রূপে দেখা গেল।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখন পর্যন্ত ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পিটোরিয়াস—এর মধ্যে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও ১৭টি টি-টোয়েন্টি। টি-টোয়েন্টিতে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৫৮, যা তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধরনকে স্পষ্ট করে।
অল্প বয়সেই অবশ্য রেকর্ডের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন নয়। স্কুল ক্রিকেটে নজর কাড়ার পর ১৭ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেটে পা রাখেন পিটোরিয়াস। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন। টাইটানসের হয়ে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১২০ রান।
এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করেন এই তরুণ। গত বছর জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করে দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। ১৯ বছর ৯৩ দিন বয়সে শতক করে দেশের ১৩৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন পিটোরিয়াস।
এবার টি-টোয়েন্টিতে আরও বড় মঞ্চে নিজের নাম লিখলেন তিনি। ১৮৮ রানের ইনিংস দিয়ে শুধু ক্রিস গেইলের দীর্ঘদিনের রেকর্ডই ভাঙেননি, বরং ২০ বছর বয়সেই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট সংস্করণে নিজের সামর্থ্যের নতুন মাত্রা দেখিয়েছেন লুয়ান-দ্রে পিটোরিয়াস।