বিপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে আলোচনায় আসেন আলিস আল ইসলাম। তাঁর বোলিংয়ের বৈচিত্র্য ও রহস্যময় অ্যাকশন ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তাঁকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। এবার জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণের আরেকটি সুযোগ পেলেন এই স্পিনার।
Table of Contents
Toggleটি-টোয়েন্টির পর এবার ওয়ানডে দলে
আলিস প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান ২০২৪ সালে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য। বিপিএলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পর নির্বাচকদের নজরে আসেন তিনি। তবে চোটের কারণে সেই সিরিজে খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর। ফলে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে।
এরপরও নির্বাচকদের বিবেচনার বাইরে চলে যাননি আলিস। সম্প্রতি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ দিয়েছে। এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশের দলেও ডাক পেয়েছিলেন এই স্পিনার। যদিও সেবার মূল একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর।
এবার ওয়ানডে দলের ১৬ সদস্যের তালিকায় নাম ওঠায় আলিসের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দল ঘোষণার অর্থই একাদশে খেলার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্ত একাদশে সুযোগ পাওয়া, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করাই হবে তাঁর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।
লিটনের নেতৃত্বে ভারসাম্যপূর্ণ দল
ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের সমন্বয় রাখার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিটন কুমার দাস। সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ব্যাটিং বিভাগে রয়েছেন তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তের মতো ক্রিকেটাররা। দলের ব্যাটিং পরিকল্পনা ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অলরাউন্ডার ও স্পিন বোলিংয়ের বিকল্প হিসেবেও দলে একাধিক ক্রিকেটার রয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম এবং আলিস আল ইসলামকে ঘিরে স্পিন বিভাগে বৈচিত্র্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পেস আক্রমণে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম। সাইফউদ্দিনও দলে জায়গা পেয়েছেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়, বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা, ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং ফিল্ডিংয়ের কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের স্পিননির্ভর শক্তি ও জিম্বাবুয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটের বিপরীতে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনে উইকেটের ধরন বুঝে বোলার নির্বাচন এবং রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ ম্যাচের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
১৭ অক্টোবর শুরু বাংলাদেশের অভিযান
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ২১ অক্টোবর শারজাহতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে লিটনের দল। একই ভেন্যুতে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফাইনাল।
স্বল্প সময়ের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে পরের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি দলের স্পিন মোকাবিলার সক্ষমতা ও কৌশল যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
আলিস আল ইসলামের জন্য সিরিজটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েও চোটের কারণে খেলার সুযোগ না পাওয়া এই বোলার এবার ওয়ানডে দলে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত একাদশে সুযোগ পাওয়ার। সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পাশাপাশি নিজের রহস্য স্পিনের কার্যকারিতা দেখানোর মঞ্চও পাবেন তিনি।
বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের ওয়ানডে দল
-
অধিনায়ক: লিটন কুমার দাস
-
সহ-অধিনায়ক: তাওহীদ হৃদয়
-
ব্যাটার: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত
-
অলরাউন্ডার ও স্পিনার: সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, আলিস আল ইসলাম
-
উইকেটকিপার: নুরুল হাসান সোহান
-
পেসার: তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম
আলিসের অন্তর্ভুক্তি দল ঘোষণার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলেও বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য থাকবে সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা এবং শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা।