মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রধান কোচ হলেন কাইরন পোলার্ড

আইপিএলের ২০২৭ আসর সামনে রেখে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। দীর্ঘদিনের সতীর্থ, খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা পোলার্ড এবার দলের নেতৃত্ব দেবেন কোচের ভূমিকায়। এর মধ্য দিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ১৬ বছরের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

সম্প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা মাহেলা জয়াবর্ধনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পোলার্ড। ২০২৩ সালের আইপিএল শুরুর আগে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর থেকে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। চার মৌসুম ধরে কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান ক্যারিবীয় এই সাবেক ক্রিকেটার।

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে পোলার্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের আইপিএল আসরের আগে। সে সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দলটির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কার্যকর ব্যাটিং, চাপের মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এবং বল হাতে অবদান মুম্বাইকে সাফল্য এনে দিয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে দলের পাঁচটি আইপিএল শিরোপা জয়ের পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।

মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০ সালে আইপিএলের শিরোপা জেতে। এই পাঁচটি শিরোপা জয়ের প্রতিটি দলের সদস্য ছিলেন পোলার্ড। পাশাপাশি ২০১১ ও ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির শিরোপা জয়ী মুম্বাই দলেরও অংশ ছিলেন তিনি। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সাফল্য, ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতি এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাঁর ধারণা দীর্ঘদিনের।

আইপিএলে খেলোয়াড় হিসেবে পোলার্ডের পরিসংখ্যানও তাঁর কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়। টুর্নামেন্টে ১৮৯টি ম্যাচ খেলে ১৪৭.৩২ স্ট্রাইক রেটে তাঁর সংগ্রহ ৩ হাজার ৪১২ রান। পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৬৯টি উইকেট। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও দলের জন্য অবদান রাখার সামর্থ্য তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম কার্যকর অলরাউন্ডারে পরিণত করেছিল।

২০২২ সালের আইপিএলে সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন পোলার্ড। এরপর ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দলের ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি, কৌশল ও পারফরম্যান্স উন্নয়নে কাজ করেন। খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া বাস্তব জ্ঞান এবার প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর কাজকে কতটা সমৃদ্ধ করে, সেটিই হবে নতুন মৌসুমের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পোলার্ড বলেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রধান কোচ হওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের। দলটি তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে। খেলোয়াড় এবং পরে কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রতিনিধিত্ব করার অর্থ কী এবং দলের নীল-সোনালি জার্সি গায়ে জড়ানোর সঙ্গে কতটা দায়িত্ব জড়িয়ে আছে।

পোলার্ড আরও বলেন, খেলোয়াড় ও সহায়ক কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, দলের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের বিকাশে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি আগ্রহী। একই সঙ্গে সমর্থকদের আরও বেশি আনন্দ ও উদ্‌যাপনের উপলক্ষ এনে দেওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।

দলের মালিক নীতা আম্বানিও পোলার্ডের নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ২২ বছর বয়সে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস পরিবারে যোগ দিয়েছিলেন পোলার্ড। গত ১৬ বছরে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। খেলোয়াড় হিসেবে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার পাশাপাশি কোচ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, আবেগ ও ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা দলের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি।

নীতা আম্বানি আরও বলেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জার্সি পরার তাৎপর্য পোলার্ড ভালোভাবেই বোঝেন। নতুন দায়িত্বেও তাঁর নিষ্ঠা, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। দলের নতুন অধ্যায়ে পোলার্ডের নেতৃত্বের সাফল্যও কামনা করেছেন তিনি।

পোলার্ডের নিয়োগ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জন্য কেবল কোচ পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি দলের নিজস্ব ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখারও ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা এবং কোচিংয়ের সাম্প্রতিক সময়—দুইয়ের সমন্বয় তাঁর বড় শক্তি হতে পারে। তবে প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর সামনে থাকবে দলকে প্রতিযোগিতামূলক রাখা, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আদায় করা এবং শিরোপার লড়াইয়ে মুম্বাইকে আবারও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ।

২০২৭ সালের আইপিএলে পোলার্ডের নেতৃত্বে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কতটা সফল হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মাঠের লড়াই পর্যন্ত। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক এবং দলের সাফল্যের ইতিহাস নতুন দায়িত্বে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ডাগআউট থেকে নিজের অভিজ্ঞতা ও কৌশল দিয়ে মুম্বাইকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়াই হবে পোলার্ডের প্রধান লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন