অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেদের খেলার পরিধি বাড়াতে এবং নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সুযোগ চেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই জোরালো দাবি জানান। তার মতে, এ ধরনের কন্ডিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে টাইগার ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠের পারফরম্যান্স—উভয় ক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নতি ঘটবে।
উল্লেখ্য, ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর এবার আবারও ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেল বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত এই দীর্ঘ বিরতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, অস্ট্রেলিয়ায় আসার জন্য বা একই কন্ডিশনে খেলার জন্য দলকে যেন আর এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয়। নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একই কন্ডিশনে খেলতে পারলে দলের সামগ্রিক সক্ষমতা বহুলাংশে বেড়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়ান পিচের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, এখানকার কন্ডিশনে ব্যাটিং করা যেকোনো ভিজিটিং দলের জন্যই অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ। উইকেটের বাড়তি বাউন্স এবং বাতাসে বলের অপ্রত্যাশিত সুইং ব্যাটারদের প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। কেবল বাংলাদেশের খেলোয়াড়রাই নন, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রথিতযশা ব্যাটারের জন্যই এই কন্ডিশন মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন। বিশেষ করে এ দেশের পেস-সহায়ক ও bouncy উইকেটে নিজেদের টেকনিক টিকিয়ে রাখা বড় পরীক্ষা।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাকেই দলের ভবিষ্যতের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন শান্ত। তিনি মনে করেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে সামনে এগিয়ে যেতে হলে এ ধরনের প্রতিকূল কন্ডিশন নিয়মিত মোকাবিলা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই সফর থেকে তরুণ ক্রিকেটাররা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা আগামী দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে দলটিকে আরও পরিপক্ব হতে এবং ভালো খেলতে সাহায্য করবে।
যদিও এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দারুণ কিছু চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ দল, তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাকাই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শেষ করতে হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর পাওয়া এই সফরে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের টেস্ট ক্রিকেটকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস ক্রিকেটপ্রেমীদের।