সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর একই সফরে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে তিন জাতির ওয়ানডে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে টাইগাররা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দুই প্রতিযোগিতার পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে।
সূচি অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দিয়ে বাংলাদেশের আমিরাত সফর শুরু হবে। টেস্ট শেষ হওয়ার পর খুব বেশি সময় হাতে না রেখেই শুরু হবে ওয়ানডে প্রতিযোগিতা। তিন দলের এই আসরে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। লিগ পর্বের ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ও ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৭ অক্টোবর। ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ১৯ অক্টোবর জিম্বাবুয়ে খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিন দলের লিগ পর্ব শেষে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
বাংলাদেশের জন্য সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ একই সময়ে দুটি ভিন্ন সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে দল। টেস্টে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা, ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়া এবং দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করার সক্ষমতা যেমন পরীক্ষা হবে, তেমনি ওয়ানডেতে দ্রুত রান তোলা, নির্দিষ্ট সময়ে উইকেট নেওয়া ও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার সামর্থ্যও যাচাই হবে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই খেলার কারণে দলকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। ৯ অক্টোবর টেস্ট শুরু হওয়ার পর ১৭ অক্টোবরই ওয়ানডে অভিযান শুরু। অর্থাৎ টেস্ট শেষ হওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই খেলোয়াড়দের সীমিত ওভারের ক্রিকেটের পরিকল্পনায় ফিরতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। উইকেটের আচরণ, আবহাওয়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বল সামলানো, দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকা এবং স্পিনারদের কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওয়ানডেতে একই কন্ডিশনে দ্রুত রান সংগ্রহের পাশাপাশি মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখাও বড় ভূমিকা রাখবে।
ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতার ফাইনাল ২৩ অক্টোবর হওয়ায় বাংলাদেশকে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে। ফলে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ সামলানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাদশে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও দলের পরিকল্পনায় থাকতে পারে।
আমিরাত সফরের পরও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা শেষ হচ্ছে না। সফর শেষে দেশে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। ফলে অক্টোবরের এই সূচি সামনে রেখে টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং ম্যাচের মধ্যে পুনরুদ্ধারের সময় ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর সূচি এক নজরে—
| তারিখ | ম্যাচ | প্রতিপক্ষ |
|---|---|---|
| ৯ অক্টোবর | একমাত্র টেস্ট | আফগানিস্তান |
| ১৭ অক্টোবর | ওয়ানডে | জিম্বাবুয়ে |
| ২১ অক্টোবর | ওয়ানডে | আফগানিস্তান |
| ২৩ অক্টোবর | ফাইনাল | লিগ পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত দল |
তিন দলের প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালে ওঠার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশ প্রথমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে। ফলে দুই ম্যাচের ফলাফলই শিরোপার লড়াইয়ে অবস্থান নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, টেস্ট ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করবে। এরপর ওয়ানডে সিরিজে তুলনামূলক দ্রুত গতির ক্রিকেটে ফিরতে হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে সফরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত একটি পর্ব অপেক্ষা করছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে শুরু হওয়া সফর শেষ হবে তিন জাতির ওয়ানডে প্রতিযোগিতার ফাইনাল দিয়ে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ থাকায় আমিরাতের এই সফর বাংলাদেশের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।