জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে প্রথম টেস্টেই ইনিংস এবং ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সফরকারীদের। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের চেয়ে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন পারফরম্যান্সে ম্যাচটি তৃতীয় দিনেই শেষ হয়ে যায়।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষ ভাগে মাত্র ৯ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অল্প সময়ের মধ্যেই ওপেনার সাদমান ইসলামের উইকেটটি হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় দল। ১ উইকেটে ৪০ রান নিয়ে আজ ম্যাচের তৃতীয় দিনে নতুন করে লড়াই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে জিম্বাবুয়ের বোলারদের তোপের মুখে দুই সেশনও পার করতে পারেনি টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।

সকালের সেশনেই টপ অর্ডারের আত্মসমর্পণ

আজ ম্যাচের তৃতীয় দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। দিনের খেলা শুরু হতে না হতেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। আগের দিনের সংগ্রহের সাথে মাত্র ১ রান যোগ করে ইনিংসের একাদশ ওভারে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেস বলের লাইনে ব্যাট আনতে ব্যর্থ হয়ে বোল্ড হন এই ওপেনার।

জয়ের বিদায়ের পর ক্রিজে থিতু হতে পারেননি অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও। পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের একটি সুইং বলে ড্রাইভ খেলতে যান তিনি। বল ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে চলে যায়। সেখানে ফিল্ডার ব্র্যাড ইভান্স দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নিলে মাত্র ১৩ রানেই থামে মুমিনুলের ইনিংস। ৪৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল তখন চরম সংকটে পড়ে।

ব্যর্থ শান্ত-মুশফিক, তাসের ঘরের মতো ভাঙল মিডল অর্ডার

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ের পেসারদের সুইং সামলে তারা দুজন উইকেট টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে স্বাগতিক বোলারদের লাইন ও লেংথ বজায় রাখা বোলিংয়ের সামনে তারাও বেশিদূর যেতে পারেননি। ব্যক্তিগত সেট হওয়ার পর অযাচিত শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন এই দুই চেনা ব্যাটার।

অধিনায়ক ও সিনিয়রদের বিদায়ের পর মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় কিংবা অমিত হাসানদের কেউই নামের প্রতি বিচার করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে রান খরায় ভুগেছেন দলের তরুণ ক্রিকেটাররা। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে যেভাবে উইকেট কামড়ে পড়ে থাকার প্রয়োজন ছিল, তার কিছুই দেখা যায়নি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। দায়িত্ব নিয়ে কেউ ক্রিজে টিকে থাকতে না পারায় তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ। ফলে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই ম্যাচটি ইনিংস ব্যবধানে হেরে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন