অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সুযোগ তৈরি করতেই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন মার্ক চ্যাপম্যান। তবে এর মানে এই নয় যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তিনি বিদায় নিচ্ছেন। বরং জাতীয় দলের হয়ে খেলা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বোর্ডের সঙ্গে আংশিক বা ক্যাজুয়াল চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে কিউই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ নেওয়ার কঠোর বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত থাকছেন এই অলরাউন্ডার। ফলে আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে নিজের সুবিধামতো খেলার দরজা তার জন্য উন্মুক্ত হলো। মূলত আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া বিগ ব্যাশ লিগকে কেন্দ্র করেই তার এমন সিদ্ধান্ত। নিউজিল্যান্ডের নিজস্ব ঘরোয়া মৌসুমের সময়সূচির সঙ্গে বিগ ব্যাশের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায়, পূর্ণকালীন চুক্তির অধীনে থেকে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল। আংশিক চুক্তির মাধ্যমে সেই জটিলতাই দূর হলো।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বাড়তি স্বাধীনতা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে এর আগেও ফিন অ্যালেন, লকি ফার্গুসন, অ্যাডাম মিলনে এবং টিম সেফার্টের মতো তারকারাও একই পথ বেছে নিয়েছিলেন। তারা সবাই জাতীয় দলের ব্যস্ততার বাইরে ব্যক্তিগত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে কেন্দ্রীয় চুক্তি এড়িয়ে গেছেন। তবে মার্ক চ্যাপম্যানের ক্ষেত্রে দেশের জার্সিতে খেলার তাড়না বা দায়বদ্ধতায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। আগামী নভেম্বরেই ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাদা বলের সিরিজে নিউজিল্যান্ড দলের হয়ে মাঠে নামার কথা রয়েছে তার। আসন্ন এই চ্যালেঞ্জিং সিরিজের জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন এবং তাকে নমনীয় চুক্তি স্বাক্ষরের সুযোগ দেওয়ায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।
এদিকে চ্যাপম্যানের কেন্দ্রীয় চুক্তি ত্যাগের ফলে নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াডে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই পূরণ করেছে বোর্ড। তার পরিবর্তে সম্ভাবনাময় ও গতিময় পেসার ম্যাট ফিশারকে পূর্ণকালীন কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে নির্বাচক গ্যাভিন লারসেন জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বেশ কিছু কঠিন টেস্ট সিরিজ খেলতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটের লম্বা ও পেসারদের জন্য পরীক্ষাঝরা এই সফরগুলোতে দলের বোলিং আক্রমণের ধার ও গভীরতা টিকিয়ে রাখতে ফিশারের মতো তরুণ গতির বোলারের অন্তর্ভুক্তি দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক পদক্ষেপ হবে।