বিসিবির ফান্ড স্থগিতের আবেদন: প্রমাণ মিললেও চিঠির কথা অস্বীকার আমিনুলের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একটি গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমে আসা খবরের বিরোধিতা করে আমিনুল দাবি করেন, আইসিসি যাতে বিসিবির সব ধরনের তহবিল বা ফান্ড স্থগিত করে, এমন কোনো চিঠি তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কখনোই পাঠাননি।

ভিডিও বার্তায় আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি এমন কোনো চিঠিই দেইনি। কেন তা দেব? আমরা সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ভালোবাসি। তাছাড়া আইসিসি আমার কথা কেন শুনবে? আইসিসিতে আমার আগের সেই যোগাযোগও এখন নেই।” তবে মুখে এই দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম কেবল চিঠিই পাঠাননি, বরং তাঁর নিজের স্বাক্ষরিত সেই চিঠির একটি অনুলিপি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন আগের বোর্ডকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত বিসিবির সমস্ত ফান্ড স্থগিত রাখার জন্য তিনি আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।

চিঠিতে আমিনুল ইসলামের মূল দাবিগুলোকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, তিনি আইসিসির তহবিল স্থগিতকরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর আবেদন হলো, বিসিবিকে বর্তমানে দেওয়ার যোগ্য আইসিসির সব ধরনের তহবিল একটি ‘এসক্রো’ অ্যাকাউন্টে বা শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা হোক। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমিনুলের নির্বাচিত বোর্ডকে আবার পুনর্বহাল করা হচ্ছে কিংবা আইসিসি ডিআরসি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অথবা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে—ততক্ষণ এই তহবিল যেন অবমুক্ত না করা হয়। চিঠিতে তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, ২০২৬ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের ভিত্তিতে যারা বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করছে, তাদের যেন কোনোভাবেই আইসিসির ফান্ড দেওয়া না হয়।

দ্বিতীয়ত, তিনি বাংলাদেশ সরকারকে আইসিসির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা বা নোটিশ জারির অনুরোধ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক গঠিত অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে যে ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারসাজি। এই তালিকার মাধ্যমে হওয়া ২০২৬ সালের ৭ জুনের নির্বাচনটি আইসিসি সংবিধানের ২.৪(গ) এবং ২.৪(ঘ) ধারার গুরুতর লঙ্ঘন। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসি যেন এই নতুন বোর্ডকে কোনো স্বীকৃতি না দেয় এবং নির্বাচিত আগের বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে বলে। আর সরকার যদি নির্দিষ্ট সময়ে তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে আইসিসি যেন তার ২.১০(ক) ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করে, তহবিল পুরোপুরি জব্দ করে এবং আইসিসি ইভেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বাদ দেয়। দেশপ্রেমের কথা মুখে বললেও আমিনুলের পাঠানো এই চিঠি যে দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে এখন ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে।

মন্তব্য করুন