ফুটবল বিশ্বকাপের জমজমাট আসরের কারণে বিশ্বজুড়ে এখন ক্রিকেট কিছুটা আড়ালে। আয়ারল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভারতের দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজ নিয়ে তাই সাধারণ দর্শকদের আগ্রহ কিছুটা কম হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। তবে ক্রিকেট অনুরাগী ও পরিসংখ্যানবিদদের চোখ ঠিকই আটকে ছিল ডাবলিনের ম্যাচটির ওপর। কারণ, এই ম্যাচেই ভেঙে যেতে পারত ভারতীয় ক্রিকেটের প্রায় চার দশকের পুরোনো এক ইতিহাস।
সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন ১৫ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-২০ ম্যাচের একাদশে সুযোগ পেলেই তিনি হতেন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ঘটিয়ে এই রেকর্ডটি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে নিজের দখলে রেখেছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। বর্তমান বৈভবের বয়স মাত্র ১৫ বছর ৯১ দিন, ফলে শচীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ ছিল তাঁর সামনে।
ঘরোয়া ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক দল, আইপিএল কিংবা সর্বশেষ ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর—সবখানেই ব্যাটে রানের ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন বৈভব। তাঁর এই অসাধারণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই নির্বাচকেরা তাঁকে জাতীয় দলে ডাকতে বাধ্য হন। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের দলে এই কিশোরের অন্তর্ভুক্তি তাই ক্রিকেট মহলে নতুন রেকর্ড গড়ার রোমাঞ্চ তৈরি করেছিল।
তবে ডাবলিনের প্রথম টি-২০ ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই প্রত্যাশায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। টসের পর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার যে একাদশ ঘোষণা করেন, সেখানে বৈভবের নাম ছিল না। অথচ আগের দিন নেটে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাকের অধীনে দীর্ঘক্ষণ ঘাম ঝরাতে দেখা গিয়েছিল এই তরুণ ওপেনারকে। বৈভবের না থাকা প্রসঙ্গে টসের পর শ্রেয়াস আইয়ার বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত ও এই ম্যাচে নেই। ও অসাধারণ একজন ক্রিকেটার, তবে এই মুহূর্তে দলে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন যারা টানা ভালো খেলছেন। আমরা তাঁদের ওপরই ভরসা রাখছি। সময় হলে বৈভব অবশ্যই খেলার সুযোগ পাবে।”
আসলে ভারতীয় দলের টপ অর্ডারে বর্তমান প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে হুট করে কাউকে বাদ দেওয়া কঠিন। ওপেনিং ও টপ অর্ডারে এখন খেলছেন অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণের মতো ফর্মে থাকা বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানরা। তাঁদের কাউকে বসিয়ে ১৫ বছরের এক কিশোরকে খেলানো টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় এক জুয়া হতো।
এই বিষয়ে দলের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাকও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, কেবল একটি রেকর্ড গড়ার খাতিরে ফর্মে থাকা কোনো নিয়মিত খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়া অবিচার হবে। দলের ভারসাম্য এবং পারফর্মারদের মূল্যায়ন করাটা সবার আগে জরুরি।
টিম ম্যানেজমেন্টের এমন পেশাদার মনোভাবের কারণে বৈভবকে আন্তর্জাতিক ক্যাপের জন্য আরও কিছুদিন ডাগআউটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে এই সফরটি বেশ লম্বা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি টি-২০ ম্যাচ খেলার পর ভারতীয় দল ইংল্যান্ড সফরে যাবে। সেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে পাঁচটি টি-২০ এবং তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে দলটির। এই দীর্ঘ সফরের যেকোনো একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেলেই শচীনের ৩৬ বছরের পুরোনো রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন এই কিশোর বিস্ময়।