সাকিবকে ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে রেকর্ডের চূড়ায় তাইজুল ইসলাম

হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসটি বাংলাদেশ দলের জন্য ছিল ভীষণ হতাশাজনক। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হওয়ার পর পেসাররাও কন্ডিশনের সুবিধা একটুও কাজে লাগাতে পারেননি। সবুজ ঘাসে মোড়া, পেসারবান্ধব উইকেটে যেখানে পেস বোলারদের রাজত্ব করার কথা ছিল, সেখানে স্বাগতিক ব্যাটারদের সামনে তারা ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। তবে দলের এমন ঘোর বিপদের দিনেও বল হাতে অবিশ্বাস্য এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তাইজুল ইসলাম। কন্ডিশন পক্ষে না থাকার পরও এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার একাই শিকার করেছেন ৭টি উইকেট। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের টেস্ট ইতিহাসের একাধিক বড় বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ইনিংসে ১৩৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সফলতম বোলার এখন তাইজুল। দেশের বাইরে এটি তার ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট নেওয়ার (ফাইফার) কীর্তি। এর আগে এই তালিকার চূড়ায় ছিলেন সাকিব আল হাসান; বিদেশের মাটিতে তার পাঁচ উইকেট ছিল পাঁচবার। তালিকায় এরপরই আছেন মোহাম্মদ রফিক এবং মেহেদী হাসান মিরাজ, যারা দেশের বাইরে ৩ বার করে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন।

এক নজরে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ও রেকর্ডসমূহ

টেস্ট ক্রিকেটে দেশের বাইরে বাংলাদেশের বোলারদের সেরা কিছু বোলিং পারফরম্যান্স এবং তাইজুলের অন্যান্য মাইলফলক নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

ক্রমিক রেকর্ডের বিবরণ ও বোলারের নাম প্রতিপক্ষ ও ভেন্যু বোলিং পরিসংখ্যান/রেকর্ড সংখ্যা
১. বিদেশের মাটিতে সেরা বোলিং (তাইজুল ইসলাম) জিম্বাবুয়ে, হারারে ৭ উইকেট (১৩৮ রান)
২. বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় সেরা বোলিং (সাকিব আল হাসান) ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জ্যামাইকা ৬ উইকেট (৩৩ রান)
৩. বিদেশের মাটিতে তৃতীয় সেরা বোলিং (ইবাদত হোসেন) নিউজিল্যান্ড, মাউন্ট মঙ্গানুই ৬ উইকেট (৪৬ রান)
৪. বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি ফাইফার (তাইজুল ইসলাম) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভেন্যু ৬ বার
۵. বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফাইফার (সাকিব আল হাসান) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভেন্যু ৫ বার
৬. বিদেশের মাটিতে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ফাইফার (মোহাম্মদ রফিক) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভেন্যু ৩ বার
৭. বিদেশের মাটিতে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ফাইফার (মেহেদী হাসান মিরাজ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভেন্যু ৩ বার
৮. টেস্টে সবচেয়ে বেশিবার ইনিংসে ৭ উইকেট (তাইজুল ইসলাম) হোম ও অ্যাওয়ে ভেন্যু ৩ বার
৯. টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ফাইফারের তালিকায় যৌথ শীর্ষ (তাইজুল ইসলাম) মোট ১০৭ ইনিংস ১৯ বার
১০. টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ফাইফারের তালিকায় যৌথ শীর্ষ (সাকিব আল হাসান) মোট ১২১ ইনিংস ১৯ বার
১১. টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ফাইফারের তালিকায় তৃতীয় স্থান (মেহেদী হাসান মিরাজ) আন্তর্জাতিক ভেন্যু ১৪ বার

ইনিংসে সাত উইকেট ও সাকিবের পাশে তাইজুল

হারারেতে ৭ উইকেট নিয়ে শুধু বিদেশের মাটিতে নিজের সেরা বোলিংই করেননি তাইজুল, বরং টেস্টে এক ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার অনন্য এক নজির গড়েছেন। এটি তার ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে সাত উইকেট শিকারের ঘটনা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আর কোনো বোলার একাধিকবার এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেননি। দেশের অন্য তারকা বোলার যেমন এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে এই কীর্তি রয়েছে কেবল একবার করে।

এই চোখধাঁধানো বোলিংয়ের সুবাদে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ডেও এখন সাকিবের পাশে বসেছেন তাইজুল। দুজনেরই এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৯টি করে পাঁচ উইকেট রয়েছে। তবে এই মাইলফলক ছুঁতে তাইজুল সাকিবের চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন। সাকিবের যেখানে লেগেছিল ১২১ ইনিংস, সেখানে তাইজুল এই রেকর্ড গড়লেন মাত্র ১০৭ ইনিংসে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। পেসারদের ব্যর্থতা আর ব্যাটারদের রান না পাওয়ার মাশুল দিতে হচ্ছে পুরো দলকে। তবে কন্ডিশন পক্ষে না থাকার পরও তাইজুল যেভাবে এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই করলেন, তা আরও একবার প্রমাণ করে কেন তাকে বড় ফরম্যাটে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ম্যাচজয়ী বোলার বলা হয়। দলের কঠিন সময়ে তার এই দুর্দান্ত বোলিং রেকর্ড বইয়ে লাল-সবুজ ক্রিকেটকে নতুন করে গর্ব করার উপলক্ষ এনে দিল।

মন্তব্য করুন