ধৈর্যের অপেক্ষার পর সুযোগ এলে সেটিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচে তারই দারুণ উদাহরণ দেখালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে প্রথম ম্যাচেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে মিরাজ ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাঁর বোলিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ ও রান আটকে রাখার দক্ষতা। ২৪ বলের মধ্যে ১৩টিই ছিল ডট বল। অর্থাৎ, তাঁর করা মোট বলের অর্ধেকেরও বেশি থেকে কোনো রান নিতে পারেনি ব্যাটাররা।
মিরাজের শিকারে পরিণত হন জন ক্যাম্পবেল, কেমোল সেভরি ও শ্রীলঙ্কান ব্যাটার চরিথ আসালাঙ্কা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরপর উইকেট তুলে নিয়ে সেন্ট লুসিয়ার রান সংগ্রহে লাগাম টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে ব্যাট হাতে অবশ্য নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ৪ বল খেলে মাত্র ১ রান করে আউট হন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
প্রথমে ব্যাটিং করে সেন্ট লুসিয়া কিংসের ইনিংস থামে ১১৯ রানে। গায়ানার হয়ে স্পিন আক্রমণে মিরাজের সঙ্গে বড় ভূমিকা রাখেন অভিজ্ঞ দক্ষিণ আফ্রিকান লেগস্পিনার ইমরান তাহির। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৭ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তাহির।
১২০ রানের লক্ষ্য খুব কঠিন ছিল না, তবে গায়ানার ব্যাটারদেরও তাড়াহুড়ো করতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন গ্লেন ফিলিপস ও কুয়েন্টিন স্যাম্পসন। সেন্ট লুসিয়ার দেওয়া ছোট লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যায় গায়ানা।
মিরাজের জন্য এই ম্যাচটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিপিএলে অভিষেকের সুযোগ। ২০১৭ সালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে তাঁর সিপিএলে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হয়নি। প্রায় এক দশক পর সেই সুযোগ বাস্তবে রূপ নেয় গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জার্সিতে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এ বছর অবশ্য মিরাজের সময়টা বেশ ব্যস্ত। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে গল গ্যালান্টেসের হয়ে খেলেছেন এবং দলটির শিরোপা জয়ে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সও চ্যাম্পিয়ন হলেও সেখানে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ফলে সিপিএলে মাঠে নেমেই পারফরম্যান্স করা তাঁর জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
ম্যাচ শেষে মিরাজের প্রশংসা করেছেন ইমরান তাহিরও। দলের নিয়মিত স্পিনার মোহাম্মদ নবীর অনুপস্থিতিতে মিরাজের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই লেগস্পিনার বলেন, নবী ছিলেন দলের অন্যতম সেরা বোলার। তাঁর জায়গায় এসে মিরাজ যেভাবে বোলিং করেছেন, সেটি দলের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে।
তাহির আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে আসা মিরাজ বিশ্বমানের বোলার। তাঁকে দলে পাওয়াটা গায়ানার জন্য বড় পাওয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিপিএলের প্রথম ম্যাচেই ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট—মিরাজের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজেকে মানিয়ে নিতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। দলের জয়ে কার্যকর অবদান রাখার পাশাপাশি অভিষেক ম্যাচেই সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক শুরু।