সূর্যবংশীর পর জয়সোয়ালও বিতর্কে, আইসিসি–বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ক্রিকেট মাঠে লড়াই আর উত্তেজনা সব সময়ই ম্যাচের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দেয়। স্লেজিং, কথার লড়াই কিংবা আগ্রাসী উদ্‌যাপন আধুনিক খেলারই চেনা দৃশ্য। কিন্তু সেই উত্তাপ যখন শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে শারীরিক সংঘর্ষ বা উসকানিমূলক আচরণে রূপ নেয়, তখন তা পুরো ক্রিকেট সংস্কৃতির জন্যই অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের দুই উদীয়মান ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী এবং যশস্বী জয়সোয়ালের জড়িয়ে পড়া দুটি মাঠের ঘটনা নিয়ে এখন চারদিকে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এই দুই তরুণ ক্রিকেটারের আচরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও পরিচিত ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) ভূমিকা নিয়ে। মাঞ্জরেকার লিখেছেন, ভারত এ দলের হয়ে বৈভবের ঘটনা এবং এখন জয়সোয়ালের মাঠের কাণ্ড—এ ধরনের আচরণে যদি কর্তৃপক্ষ বারবার ছাড় দিতে থাকে, তবে প্রকারান্তরে খেলোয়াড়দের এমন নেতিবাচক বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করতেই উৎসাহ দেওয়া হয়। তার মতে, এই ধরনের ছাড় কেবল খেলার সুনামের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং ওই তরুণ ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার ভবিষ্যতের জন্যও চরম হুমকিস্বরূপ।
যশস্বী জয়সোয়ালকে নিয়ে সাম্প্রতিক এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে শ্রীলঙ্কার মাটিতে চলমান কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনে। সেদিন দুর্দান্ত ব্যাট করার পর যখন এই বাঁহাতি ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান লঙ্কান পেসার আশিতা ফার্নান্দো, তখন উইকেট শিকারের উদ্‌যাপনে কিছুটা তেতে ওঠেন বোলার। ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা জয়সোয়ালও সেই উদ্‌যাপনে মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই টেস্ট সিরিজের আবহ এমনিতেই বেশ টানটান ছিল, যার প্রভাব দেখা গেছে খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাতেও।
এর আগে বৈভব সূর্যবংশীর ক্ষেত্রেও অনূর্ধ্ব পর্যায়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মাঠে বচসা ও শারীরিক দূরত্বের সীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। অথচ প্রতিভাবান এই তরুণরা যখন বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, তখন তাদের এমন আচরণ শৃঙ্খলাভঙ্গের বড় নজির হয়ে উঠছে। মাঠের ভেতরের আম্পায়ার এবং ম্যাচ রেফারিরা অনেক সময় সতর্ক করে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমী ও সাবেক তারকাদের স্পষ্ট বার্তা, প্রতিভা যত বড়ই হোক না কেন, ক্রিকেটের মৌলিক ভদ্রতা এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা উচিত নয়। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডগুলো এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে ভবিষ্যতে কতটা কঠোর বা নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

মন্তব্য করুন