অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলাফল ১-১। তবে সিরিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু অস্ট্রেলিয়াকে হারানো নয়; দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যেরও নতুন প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাকাইয়ে রোববার শেষ হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য বড় ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ করে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায়। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৬৪ রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে দলটি করতে পারে ৯৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠেন।
তবে এই পরাজয়ের আগে ডারউইনে বাংলাদেশের অর্জন ছিল ঐতিহাসিক। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয়। পরে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও শাদমান ইসলাম সেই লক্ষ্য পেরিয়ে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন।
এই সিরিজের আগে মে মাসে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠেছিল। তখন বাংলাদেশের রেটিং ছিল ৭৮। এর আগে টেস্ট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল অষ্টম।
তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পর র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ষষ্ঠ স্থানে ওঠার দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বর্তমানে পাওয়া নির্ভরযোগ্য র্যাংকিং তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল নবম স্থানে ৭৩ রেটিং নিয়ে। একই সময়ে মে মাসের সর্বশেষ নিশ্চিত হালনাগাদে বাংলাদেশ ছিল সপ্তম স্থানে ৭৮ রেটিং নিয়ে। তাই ম্যাকাই টেস্টের পর নতুন র্যাংকিং প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে ‘ইতিহাসের সেরা ষষ্ঠ’ বলা নিশ্চিতভাবে সমর্থন করার মতো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তারপরও অস্ট্রেলিয়া সফরের ফলাফল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে বড় বার্তা দিয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুইবারের ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাঠে হারিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, ভালো প্রস্তুতি ও দলগত পারফরম্যান্স থাকলে বড় দলের বিপক্ষেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
ডারউইনের জয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের বোলিং বিভাগের জন্য। হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার পথ আরও সহজ করে দেন। ফলে স্বাগতিকদের বড় তারকাসমৃদ্ধ দলকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
অন্যদিকে ম্যাকাইয়ের পরাজয় বাংলাদেশের দুর্বলতাও স্পষ্ট করেছে। বাউন্স ও গতি পাওয়া উইকেটে ব্যাটারদের টেকনিক ও পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ঘাটতি দেখা গেছে। প্রথম ইনিংসে ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হওয়া তারই প্রমাণ।
দুই টেস্টের সিরিজ তাই বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সাফল্য ও শিক্ষার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তেমনি দ্বিতীয় টেস্টের ব্যাটিং ধস দেখিয়েছে সামনে আরও কাজ করার জায়গা রয়েছে। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে র্যাংকিংয়ে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে থাকবেই।