আইসিসিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রশ্নে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রশ্নটি—বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কার্যত দায়িত্বে আছেন তামিম ইকবাল, নাকি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, আইসিসি এবং এসিসি—উভয় সংস্থার ওয়েবসাইটেই এখনো বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আমিনুল ইসলামের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। অথচ বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভায় তামিম ইকবালকে এই দুটি সংস্থায় বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড প্রধানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সাধারণত আইসিসি ও এসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরসে সদস্যদেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি বা চেয়ারম্যানরাই প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রয়োজনে তাঁদের মনোনীত অন্য কেউ সভায় অংশ নিতে পারেন। একই সঙ্গে উভয় সংস্থায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক সভা (সিইসি) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সদস্য বোর্ডগুলোর সিইওরা অংশগ্রহণ করেন।

তামিম ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও আইসিসির ওয়েবসাইটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যাকে আইসিসির ভাষায় “ইনডাকশন প্রসেস” বলা হয়। এই প্রক্রিয়ার আওতায় মনোনীত প্রতিনিধিকে আইসিসির সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়, আচরণবিধিতে স্বাক্ষর করতে হয় এবং সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং গ্রহণ করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির আইন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

এই ইনডাকশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী সভাপতিই কাগজে-কলমে বোর্ড সদস্য হিসেবে থেকে যান। অতীতেও অনুরূপ পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পরও পূর্ববর্তী প্রতিনিধি কিছু সময়ের জন্য আইসিসির তালিকায় বহাল ছিলেন।

তবে বর্তমান ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত জটিলতা রয়েছে। তামিম ইকবাল নির্বাচিত সভাপতি নন; তিনি সরকার-মনোনীত অ্যাডহক কমিটির প্রধান। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডের প্রতিনিধিকে সাধারণত একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হয় এবং বোর্ড পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। এই দুটি শর্ত তামিমের ইনডাকশন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিচে আইসিসিতে নতুন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির সাধারণ ধাপগুলো উপস্থাপন করা হলো—

ধাপ বিবরণ
মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট দেশের বোর্ড থেকে প্রতিনিধি মনোনয়ন
নিয়ম মেনে চলা বোর্ডের গঠনতন্ত্র আইসিসির মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া
যাচাই মনোনীত ব্যক্তির পরিচয় ও বৈধতা নিশ্চিতকরণ
ইনডাকশন আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং ও আচরণবিধি স্বাক্ষর
অংশগ্রহণ বোর্ড সভায় যোগদান

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমিনুল ইসলামকে এখনো বোর্ড সদস্য হিসেবে দেখানোর সম্ভাব্য দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তামিমের ইনডাকশন প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। দ্বিতীয়ত, আইসিসি হয়তো বিসিবির বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম নিজেও নিশ্চিত নন। তিনি বলেছেন, এটি প্রক্রিয়াগত বা আইনগত—দুই কারণেই হতে পারে এবং সঠিক ব্যাখ্যা আইসিসিই দিতে পারবে।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইনডাকশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগে এবং আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভার আগেই এটি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ওয়েবসাইটেও সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন প্রতিফলিত হবে।

অন্যদিকে, এসিসিতে প্রতিনিধি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। সংশ্লিষ্ট বোর্ড যাকে মনোনয়ন দিয়ে সভায় পাঠায়, তিনিই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হন। তবে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে এসিসি সাধারণত আইসিসির অবস্থান অনুসরণ করে।

আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভা ভারতের আহমেদাবাদে আইপিএল ফাইনালের (৩১ মে) আগে বা পরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সভাতেই বিসিবির প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আইসিসি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারে।

মন্তব্য করুন