আইসিসির চিঠিতে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবিকে দেওয়া নির্দেশনা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত সফর এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পর্ক কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, যেখানে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারও নিরাপদ নয়, সেখানে পুরো দল কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই কারণে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদ (আইসিসি) এবং ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে একাধিক চিঠি পাঠিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্থানান্তরের জন্য অনুরোধ করেছে।

আইসিসি-এর নিরাপত্তা বিভাগের সর্বশেষ চিঠিতে তিনটি প্রধান আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, মূলত চারটি দিক থেকে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আইসিসির ঝুঁকি মূল্যায়ন সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

ঝুঁকির বিষয় মূল পয়েন্ট ঝুঁকির মাত্রা
মুস্তাফিজ ইস্যু মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থার সম্ভাবনা মাঝারি থেকে উচ্চ (বাংলাদেশের জন্য), অন্যান্য দলের জন্য মাঝারি
বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা বেঙ্গালুরুতে ওয়ার্মআপ, কোলকাতা ও মুম্বাইতে গ্রুপ পর্ব ম্যাচ মাঝারি থেকে কম, বিশেষ পরিস্থিতিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ
সমর্থকদের নিরাপত্তা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি সমর্থকের ঝুঁকি, সহিংসতার আশঙ্কা মাঝারি থেকে উচ্চ
রাজনৈতিক ও নির্বাচন ইস্যু বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রভাব ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উত্তেজনা মাঝারি, ভেন্যুতে বড় হুমকি নেই

মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই-এর নির্দেশনা অনুযায়ী মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পর্যালোচনা অনুযায়ী বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে। তবে আইসিসি বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন যে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটলে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

এছাড়াও, আইসিসি পরামর্শ দিয়েছে যে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার পূর্ণ পর্যালোচনা করা হোক। বর্তমানে কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা দুই বোর্ডের দুই স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক দ্বারা পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। মেইলের শেষাংশে বিসিবির নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে মন্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা উদ্বেগ নিরসন করা যায়।

আইসিসি-এর এই বিশ্লেষণ এবং চিঠি প্রমাণ করছে যে, শুধুমাত্র খেলার ক্ষেত্র নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকেও বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের ভারত সফর নিরাপত্তার দিক থেকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা ঝুঁকি এড়ানো যায়।

মন্তব্য করুন