আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ শুক্রবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই এবং খেলোয়াড়দের ছন্দে ফেরানোর জন্য ম্যাচটি বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আরব আমিরাতের কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য আলাদা পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। আবুধাবির গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় মাঠে থাকা এবং টেস্টের চাপ সামলানো সহজ হবে না। নতুন ভেন্যুতে দুই দলের খেলোয়াড়দেরই কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।
ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারকে। দুজনের ব্যাটিংয়ের ওপর শুরুতেই ভালো ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব থাকবে। তিন নম্বরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দেখা যেতে পারে।
মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের বড় ভরসা মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ব্যাট করার অভিজ্ঞতা রয়েছে দুজনেরই। ফলে দলের প্রথম সারির ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে গেলে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব তাদের কাঁধে পড়তে পারে।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লিটন দাসকে ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যেতে পারে। সাত নম্বরে তাওহীদ হৃদয়ের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই বাড়তি ভারসাম্য দিতে পারেন।
বোলিংয়ে তিন পেসারের ওপর ভরসা
সম্ভাব্য একাদশে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকতে পারেন হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন। নতুন বলে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া এবং দীর্ঘ স্পেলে চাপ ধরে রাখাই হবে তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
একাদশে তাইজুল ইসলামও রয়েছেন। আবুধাবির কন্ডিশনে স্পিনারদের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, সেটিও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ দিক। আফগানিস্তানের ব্যাটারদের বিপক্ষে তাইজুল ও মিরাজকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের দলেও রয়েছে কার্যকর স্পিন আক্রমণ। রশিদ খানের অনুপস্থিতিতে দলটির নেতৃত্বে রহমত শাহকে দেখা যেতে পারে। জিয়াউর রহমান ও কায়েস আহমেদের মতো খেলোয়াড়রাও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেন।
টেস্টে দুই দলের লড়াই সমানে সমান
টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান মুখোমুখি হয়েছে দুবার। দুই দলের প্রত্যেকেই একটি করে জয় পেয়েছে।
২০১৯ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। চার বছর পর ২০২৩ সালে মিরপুরে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় স্বাগতিক দল।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ম্যাচটি বাংলাদেশের পরিচিত ঘরের মাঠে নয়; আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগের দুই ম্যাচের পরিসংখ্যান সরাসরি বর্তমান ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে না।
আবুধাবির গরম আবহাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। টেস্ট ম্যাচে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং করতে হয়। তাই শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ধৈর্যও বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ
তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেনের মধ্য থেকে একাদশ সাজানো হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত একাদশে পরিবর্তন আসবে কি না, তা টসের আগে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে আফগানিস্তানের স্পিন শক্তি সামলে ব্যাটিংয়ে বড় জুটি গড়া এবং কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে বোলারদের কার্যকর করে তোলাই বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে।