আফগানিস্তানের ৩০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের পথে বাংলাদেশ

ওমানের আল আমিরাতে অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের দেওয়া ৩০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করছে বাংলাদেশ। সোমবার টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান যুব দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনারকে হারালেও আল আমিন রনি ও এহসান আল মুনিরের ব্যাটে লড়াইয়ে রয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

প্রতিবেদন লেখার সময় ২৬.১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৬৯ রান। জয়ের জন্য বাকি ২৩.৫ ওভারে আরও ১৩৬ রান করতে হবে। আল আমিন ৬৩ এবং মুনির ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। হাতে আট উইকেট থাকায় বাংলাদেশের সামনে জয়ের সুযোগ রয়েছে, তবে লক্ষ্য অর্জনে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে হবে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ভালো ফলের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে বড় সংগ্রহের মুখে পড়েছে দলটি। এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে হলে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রান তোলার গতি ধরে রাখতে হবে।

আফগানিস্তানের বড় সংগ্রহে নোমানের ৭৬

সোমবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শুরু থেকেই তাদের ব্যাটসম্যানরা রান তোলায় কার্যকর ভূমিকা রাখেন। দলের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকেই দুই অঙ্কের রান করেন। তাঁদের মধ্যে নোমান সালারজাই ও ফরিদুল্লাহ ইহসাস তুলে নেন অর্ধশতক।

আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন নোমান সালারজাই। ফরিদুল্লাহ ইহসাসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান। তাঁদের দুজনের অর্ধশতক দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত তৈরি করে দেয়।

এ ছাড়া আবিদুল্লাহ নাদারজান করেন ২৩ রান, সোবহান জাখাইল ২৭ এবং হামজা খান ২৯ রান করেন। ফলে আফগানিস্তানের ইনিংসে একাধিক ব্যাটসম্যানের অবদান দেখা যায়। বাংলাদেশের বোলারদের জন্য প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইনিংসের শেষদিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। তাহির সারওয়ারি মাত্র ৩১ বলে ৪৩ রান করেন। আমির হামজা ১১ বলে যোগ করেন ২১ রান। তাঁদের দ্রুত রান তোলার সুবাদে আফগানিস্তানের সংগ্রহ তিন শতাধিক রানে পৌঁছে যায়।

নির্ধারিত ৫০ ওভারের মধ্যে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রান করে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রুবাই ইসলাম রিজন। তিনি চারটি উইকেট নেন। জেকে শরিফ সিয়ামের শিকার দুটি উইকেট। তবে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ

৩০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মুহি ও জারিফ সাইমকে হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। আল মুহি ৫০ রান করে ফেরেন, আর জারিফ সাইমের সংগ্রহ ২২ রান।

দুই ওপেনারের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০১ রান। ফলে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাঝের সারির ব্যাটসম্যানদের ওপর দায়িত্ব বেড়ে যায়। এই অবস্থায় দ্রুত উইকেট হারালে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন আল আমিন রনি ও এহসান আল মুনির। দুজনই সতর্কতার সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রান তোলার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদন লেখার সময় আল আমিন ৬৩ এবং মুনির ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছায় ১৬৯ রানে।

জয়ের জন্য প্রয়োজন কার্যকর জুটি

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো উইকেট হাতে রেখে রান তোলার গতি বজায় রাখা। হাতে আট উইকেট থাকায় ম্যাচে ফেরার সুযোগ রয়েছে। তবে ৩০৫ রানের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আল আমিন ও মুনিরের জুটি দীর্ঘ করতে হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী ব্যাটসম্যানদেরও প্রয়োজনের সময় দায়িত্ব নিতে হবে।

আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে একের পর এক কার্যকর ইনিংস খেলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও তেমন সম্মিলিত অবদান প্রয়োজন। শুধু একজন বা দুজনের ওপর নির্ভর না করে পুরো দলকে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। লক্ষ্য বড় হওয়ায় উইকেট বাঁচানোর পাশাপাশি রান তোলার গতিও গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও কম নয়। আল আমিন ও মুনিরের জুটি বড় হলে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে আফগানিস্তান আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশ ২৬.১ ওভারে ১৬৯ রান করেছে, হাতে রয়েছে আট উইকেট। জয়ের জন্য আরও ১৩৬ রান প্রয়োজন। ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আল আমিন ও মুনিরের ব্যাটিং এবং শেষ পর্যন্ত দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স।

মন্তব্য করুন