জ্বর কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অসুস্থতার কারণে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে অংশ নিতে না পারলেও এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ম্যাচটি সামনে রেখে আজ সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে শান্তর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার আমিরাত যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আগামী ৯ অক্টোবর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট। ম্যাচটি চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় পাবেন শান্ত। তবে দীর্ঘ সময় জ্বরে ভোগার পর তার পূর্ণ ফিটনেস কতটা ফিরে এসেছে, সেটিও নজরে রাখবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
এদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রস্তুতি হিসেবে দুবাইয়ে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। শান্ত এই ম্যাচে নেই। তার অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। মূল ম্যাচের আগে এই প্রস্তুতি ম্যাচে দলের খেলোয়াড়দের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শান্তর শারীরিক অবস্থা নিয়ে অবশ্য আশাবাদী জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। সম্প্রতি ক্রিকবাজকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে শান্ত খেলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তবে জ্বরের পর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রধান নির্বাচকের ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানে থাকাকালে অসুস্থতার কারণে শান্তকে হোটেলেই অবস্থান করতে হয়েছিল। বাইরে যেতে না পারায় খাবার সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাকে। ফলে অসুস্থতার সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন ও প্রস্তুতি ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে শান্ত আগের তুলনায় ভালো বোধ করছেন এবং তার সার্বিক শারীরিক অবস্থাও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন বাশার।
বাংলাদেশের জন্য শান্তর প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি দলের ব্যাটিং লাইনআপেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ম্যাচের আগে তার ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং অসুস্থতা থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শেষ হওয়ার পরও আমিরাতেই থাকবে বাংলাদেশ দল। এরপর বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। অর্থাৎ আমিরাত সফরে টেস্টের পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে দলকে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য আবুধাবির টেস্ট। শান্তর আমিরাতে যাত্রা সেই প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার পাশাপাশি টেস্টের আগে প্রয়োজনীয় অনুশীলন ও দলের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পেলে অধিনায়ক হিসেবে তার ফেরাটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে।