টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে এখনো প্রায় মাসখানেক বাকি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্ব আসরকে ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। অধিকাংশ দল এখনো তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা না করলেও, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই নিজের অভিজ্ঞ ক্রিকেটীয় মস্তিস্ক প্রয়োগ করে সম্ভাব্য চার সেমিফাইনালিস্টের নাম ঘোষণা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি অফস্পিনার হরভজন সিং। ৭১১টি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক এই সাবেক তারকা মনে করেন, দলগুলোর সাম্প্রতিক ফর্ম এবং এশীয় কন্ডিশন বিচার করলে চারটি দল অন্যদের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে। তবে তার এই তালিকায় যেমন চমক রয়েছে, তেমনি বড় কিছু দলের অনুপস্থিতি জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের।
হরভজন সিং-এর মতে, এবারের আসরে শিরোপার সবচেয়ে প্রবল দাবিদার স্বাগতিক ভারত। গাল্ফ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৫ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, “নিজেদের কন্ডিশনে ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। তবে তাদের জন্য মূল পরীক্ষা হবে বিশ্বকাপের প্রবল মানসিক চাপ জয় করা।” ভারতকে তালিকার শীর্ষে রাখার পাশাপাশি তিনি সেমিফাইনালের বাকি তিনটি পজিশনে জায়গা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফগানিস্তানকে। বিস্ময়করভাবে তিনি বর্তমান ক্রিকেটের দুই পাওয়ার হাউজ ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে বাদ দিয়েছেন। ভাজ্জির মতে, এই কন্ডিশনে ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে অন্য দলগুলোর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি।
অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে হরভজন মন্তব্য করেন যে, যেকোনো বড় আসরে অজিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক সহজাত ক্ষমতা থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক ‘অবিশ্বাস্য’ পারফরম্যান্সও তাকে মুগ্ধ করেছে। তবে তার বিশ্লেষণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো আফগানিস্তানকে নিয়ে। হরভজন বিশ্বাস করেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কার স্পিন-সহায়ক উইকেটে রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীদের আফগানিস্তান যেকোনো বিশ্বশক্তিকে একাই ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে যখন খেলা এশিয়ায় হয়, তখন আফগান স্পিনাররা হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য।
হরভজনের চোখে সম্ভাব্য চার সেমিফাইনালিস্টের বিশ্লেষণ:
| দলের নাম | সেমিফাইনালের দাবিদার হওয়ার কারণ | প্রধান বাধা হতে পারে |
| ভারত | কন্ডিশন সুবিধা ও অত্যন্ত শক্তিশালী ভারসাম্য। | টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের চাপ। |
| অস্ট্রেলিয়া | জয়ী হওয়ার মানসিকতা ও অভিজ্ঞ স্কোয়াড। | মন্থর ও অতিমাত্রায় স্পিন উইকেট। |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | বর্তমান টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিধ্বংসী ফর্ম। | বড় ম্যাচে স্নায়বিক দুর্বলতা। |
| আফগানিস্তান | বিশ্বসেরা স্পিন আক্রমণ ও এশীয় পিচ। | বড় দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞতার অভাব। |
হরভজন সিং-এর এই সাহসী পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই ক্রিকেট বোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মতো গত আসরগুলোর সফল দলকে বাদ দিয়ে আফগানিস্তানকে জায়গা দেওয়া নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যেহেতু প্রতি ওভারেই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তাই হরভজনের এই ‘ক্রিকেটীয় জ্যোতিষবিদ্যা’ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয় তা দেখার জন্য আমাদের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, ভাজ্জির এই বিশ্লেষণ বিশ্বকাপের উত্তাপকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তুঙ্গে নিয়ে গেছে।