ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এক দিনে সর্বোচ্চ রান, ছক্কা এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—সবকিছু মিলিয়ে নজিরবিহীন এক দিন দেখা গেছে শনিবার। ওই দিন অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচে মোট ৭৭.২ ওভারে উঠেছে ৯৮৬ রান, যা আইপিএলের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮৯৯ রান হয়েছিল।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি–পাঞ্জাব ম্যাচে ওঠে ৫২৯ রান, আর জয়পুরে রাজস্থান–হায়দরাবাদ ম্যাচে হয় ৪৫৭ রান। এই দুই ম্যাচেই ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, যেখানে বোলাররা কার্যত চাপে পড়েন।
একই দিনে মোট ছক্কা হয়েছে ৫৯টি, যা আইপিএলের ইতিহাসে এক দিনের সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৫৩টি, যা ২০২৫ সালের ৪ মে ও ২৫ মে দুই দিনে হয়েছিল।
দিনের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ম্যাচ | ২টি |
| মোট রান | ৯৮৬ |
| মোট ওভার | ৭৭.২ |
| সর্বোচ্চ এক দিনের রান (পূর্ববর্তী) | ৮৯৯ (২০২৪) |
| মোট ছক্কা | ৫৯ |
| পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ছক্কা | ৫৩ (২০২৫) |
জয়পুরে রাজস্থান–হায়দরাবাদ ম্যাচে দেখা যায় আরও কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা। রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ইনিংসের প্রথম ওভারেই চারটি ছক্কা হাঁকান, যা আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম। জবাবে হায়দরাবাদও তাদের ইনিংসের প্রথম ওভারে দুটি ছক্কা মারে। ফলে একটি ম্যাচের প্রথম ওভারগুলোতেই মোট ছয়টি ছক্কার ঘটনা ঘটে, যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরল।
দিল্লি–পাঞ্জাব ম্যাচে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও তৈরি হয় নতুন ইতিহাস। দিল্লির ওপেনার লোকেশ রাহুল ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রান করেন। এটি আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। একই সঙ্গে এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রান। তিনি ৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
তবে রাহুলের এই ইনিংস দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। দিল্লি ২৬৪ রান করে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর গড়লেও পাঞ্জাব ৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। প্রভসিমরান সিংয়ের ৭৬ ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
অন্যদিকে, বৈভব সূর্যবংশীও ব্যক্তিগতভাবে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন। তিনি ১৫ বলে ফিফটি ও ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেন। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম ১০০০ রানের রেকর্ড গড়েন এবং সবচেয়ে কম বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছান। মাত্র ১৫টি আইপিএল ইনিংসেই তিনি দুটি সেঞ্চুরি করেন।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড
| খেলোয়াড় | অর্জন |
|---|---|
| লোকেশ রাহুল | ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রান |
| বৈভব সূর্যবংশী | ৩৬ বলে সেঞ্চুরি |
| সূর্যবংশী | দ্রুততম ১০০০ রান (টি-টোয়েন্টি) |
| সূর্যবংশী | সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ১০০০ রান |
তবে সূর্যবংশীর দল রাজস্থান শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি। তাদের দেওয়া ২২৯ রানের লক্ষ্য হায়দরাবাদ ৯ বল হাতে রেখেই অতিক্রম করে।
সব মিলিয়ে, এই দিনে ব্যাটসম্যানদের প্রাধান্য ও রেকর্ডের বন্যা আইপিএলের ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।