ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল

ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হান–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় গুলশান থানা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। নারীর প্রতি নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন দমন আইন–২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)–এর ধারা ৯(১) অনুযায়ী চার্জশিটটি গঠন করা হয়।

চার্জশিট আদালতে জমা

তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সামিউল ইসলাম ৩০ নভেম্বর চার্জশিট জমা দেন। তিনি বলেন,
“তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে দিন আদালতে চার্জশিট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন হবে এবং মামলার অগ্রগতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হতে পারে।

কি আছে চার্জশিটে

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে—ফেসবুকের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তোফায়েলের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে কথাবার্তা বাড়লেও নারীটি প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেননি। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেন। ওই সম্পর্কের সুযোগেই তাকে বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়—৩১ জানুয়ারি গুলশানের একটি হোটেলে প্রথমবার ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এরপর আরও কয়েকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী ১ আগস্ট গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

জামিন ও আদালত-সংক্রান্ত তথ্য

মামলা দায়েরের পর তোফায়েল হাইকোর্ট থেকে ** ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন** পান (২৪ সেপ্টেম্বর)। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন,
“বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে। বিষয়টি দুই পরিবারকে জানালেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।”

মামলার অগ্রগতির সারসংক্ষেপ

বিষয় তথ্য
অভিযুক্ত ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হান
অভিযোগ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ
আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত), ধারা ৯(১)
প্রথম ঘটনা ৩১ জানুয়ারি, গুলশান
মামলা দায়ের ১ আগস্ট
আগাম জামিন ২৪ সেপ্টেম্বর, ৬ সপ্তাহের জন্য
চার্জশিট দাখিল ৩০ নভেম্বর
পরবর্তী শুনানি ৩০ ডিসেম্বর

প্রসঙ্গত

ঘটনাটি ক্রিকেট অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে। আদালত পরবর্তী শুনানিতে চার্জ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

SB

মন্তব্য করুন