নিউ চণ্ডীগড়ের মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য দিনটি ঐতিহাসিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে এই ভেন্যুতে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি করে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল। এছাড়া মেয়েদের ক্রিকেটে এই মাঠে চারটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ ওভারের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার তোলা ২৮২ রান ছিল এই মাঠের আগের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। সেই ম্যাচে ভারত ২৮১ রান করেও হার এড়াতে পারেনি। তবে পুরুষ দলের এই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিক ভারত সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে।
চলমান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথম দুই খেলায় জয় তুলে নিয়ে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে টিম ইন্ডিয়া। ফলে আজকের এই ম্যাচটি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর লড়াই। সিরিজে ইতোমধ্যে পিছিয়ে পড়া ক্যারিবীয়দের আজ ম্যাচ জিততে হলে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম কঠিন রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ পার করতে হবে।
এর আগে গুয়াহাটিতে সিরিজের আগের ম্যাচে ওয়ানডে ক্রিকেটে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪০৫ রান করেও পরাজয় এড়াতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। আজকের ম্যাচে তাদের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়সম লক্ষ্য। ওয়ানডে ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর আগে কখনো ৩৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জেতেনি। তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি গড়া হয়েছিল ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, যেখানে তারা ৩২৭ রান টপকে জয় তুলে নিয়েছিল। তাছাড়া, ভারতের এই সফরে আসার আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১৯ রানের জবাবে ব্যাট করে ৩৮৯ রান করা ছিল ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় রানের ইনিংস।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক ভারত। লোকেশ রাহুলের অনবদ্য ১২৯ রানের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫১ রান সংগ্রহ করে টিম ইন্ডিয়া। এর মাধ্যমে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে রেকর্ড ৪৫তম বারের মতো ৩৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলল ভারত। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর ইন্দোরে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ভারত ৫ উইকেটে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪১৮ রান করেছিল। এরপর ভারত আরও আটটি ওয়ানডে ম্যাচে ৪০০ বা তদূর্ধ্ব রানের ইনিংস উপহার দিয়েছে, যার সর্বশেষটি দেখা গিয়েছিল এই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের করা ৪০৬ রানের ঝলমলে ইনিংসে।