চল্লিশ বছর পর পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটে ঘটল বিরল এক ঘটনা

দলের প্রধান পেসার দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও একাদশ থেকে বাদ পড়ার নজির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেটে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে, যা নাড়া দিয়েছে গোটা ক্রীড়াঙ্গনকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে আগুনে পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার পরেও মোহাম্মদ আব্বাসকে জায়গা দেওয়া হয়নি দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে। আর এর মাধ্যমেই পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রায় সাড়ে চার দশক পর এমন এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল, যা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে।

ক্যারিবীয় সফরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে পুরো ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৬৩ রান খরচ করে ৩টি উইকেট শিকার করার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে রীতিমতো তাণ্ডব চালান এই মিডিয়াম পেসার। মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি একাই শিকার করেন ক্যারিবীয়দের ৫টি উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে মোট ৮ উইকেট শিকার করে তিনি নিজের কার্যকারিতা শতভাগ প্রমাণ করেছিলেন। অথচ ব্যক্তিগত সাফল্যের সেই ম্যাচটিতে পাকিস্তান দল ৯০ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। প্রথম টেস্টে হারের পর টিম ম্যানেজমেন্ট দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকার পরেও আব্বাসকে বাদ দেওয়া হয়।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখলে অবাক হওয়ার মতো তথ্য সামনে আসে। এর আগে টেস্টে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করার পরেও কোনো বোলারকে পরবর্তী ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়ার এমন ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেটে শেষবার ঘটেছিল ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সালের দিকে। সেই সময় ভারত সফরে কানপুর টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর এহতেশামউদ্দিনকে চেন্নাই টেস্টের একাদশ থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার দশক পর মোহাম্মদ আব্বাসের ক্ষেত্রে সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো।

পোর্ট অফ স্পেনের বিখ্যাত কুইন্স পার্ক ওভালের উইকেটের চরিত্র ও কন্ডিশন বিবেচনা করেই মূলত এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট। ম্যাচ শুরুর আগে পিচের আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের নেতৃত্বভার যার কাঁধে ছিল, সেই পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম জানিয়েছিলেন যে এখানকার কন্ডিশন একেবারেই ভিন্ন। উইকেটের চরিত্র বুঝতে পেরে তাঁরা পেসার কমিয়ে বরং দলের স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী করার জন্য একজন অতিরিক্ত স্পিনার খেলানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

তবে শুধু মোহাম্মদ আব্বাস একা নন, দলের কম্বিনেশন বদল করতে গিয়ে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে কোণঠাসা হতে হয়েছে আরও কয়েকজন পেসারকে। আব্বাসের পাশাপাশি বাদ পড়েছেন আমের জামাল এবং খুররম শাহজাদের মতো পেসাররাও। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে তরুণ দুই পেসার আওয়াইস জাফর ও উবাইদ শাহের। একই সঙ্গে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করার পরেও চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন শান মাসুদ, যার পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ শফিক। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুউচ্চ শিখরে থেকেও উইকেটের মায়াজালে আটকা পড়ে আব্বাসের এই বাদ পড়া দলটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন