ছেলেদের বিপক্ষে খেলে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট দল

নারী এশিয়া কাপ সামনে রেখে ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ছেলেদের দলের বিপক্ষে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা ও তাঁর সতীর্থরা।

পাকিস্তানের মেয়েরা লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে আব্দুল কাদির ক্রিকেট একাডেমির ছেলেদের দলের বিপক্ষে ২০ ওভারের ম্যাচগুলো খেলেছেন। মূল টুর্নামেন্টে নামার আগে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে ব্যাটিং, বোলিং ও চাপ সামলানোর সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য।

এর আগে সর্বশেষ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলও অনূর্ধ্ব-১৫ দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছিল। এবার একই ধরনের প্রস্তুতির পথে হাঁটল পাকিস্তান নারী দল। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

প্রস্তুতি ম্যাচগুলো পাকিস্তান দলের জন্য বেশ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। তাঁর মতে, ছেলেদের বিপক্ষে খেলার কারণে দলের ক্রিকেটাররা চাপের মধ্যে নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছেন।

ফাতিমা বলেন, ‘টুর্নামেন্টের জন্য খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। ছেলেদের বিপক্ষে বেশ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছি, যেখানে আমরা চাপের মুখে পড়েছিলাম। এই অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা প্রতিযোগিতার কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের সাহায্য করবে।’

নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের এবারের আসর বসছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আগামী ২৮ আগস্ট দুবাইয়ে শুরু হবে মহাদেশীয় ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতা। প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াই শেষে ১৩ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে।

পাকিস্তান রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। একই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, থাইল্যান্ড ও হংকং। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ ১ সেপ্টেম্বর, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে।

টুর্নামেন্টের শুরুতেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পাকিস্তানের। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রতিযোগিতার আগে চাপের মধ্যে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন পাকিস্তানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ছেলেদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলোতে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, প্রতিপক্ষের চাপ সামলানো এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুশীলনও হয়েছে পাকিস্তান দলের। এখন সেই প্রস্তুতির বাস্তব পরীক্ষা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের এশিয়া কাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর গ্রুপ পর্বের ফলের ওপর নির্ভর করবে তাদের পরবর্তী পথ। টুর্নামেন্টে ভালো করতে প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন