জাতীয় ক্রিকেট লিগ: মিমের দেড়শ, নাঈমের সেঞ্চুরি ও মাহেদীর ঘূর্ণি জাদু

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনেই ব্যাট ও বলের জমজমাট লড়াই উপহার দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা। দেশের চারটি ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই রাউন্ডের উদ্বোধনী দিনে সেঞ্চুরি ও দেড়শ রানের ঝলক দেখিয়েছেন ব্যাটাররা। অন্যদিকে, বোলিং বিভাগে একক নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষ শিবিরকে ধসিয়ে দিয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনাররা। বিশেষ করে মিম মোসাদ্দেক ও নাঈম শেখের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং মাহেদী হাসানের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স প্রথম দিনের খেলাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন খুলনার অভিজ্ঞ স্পিনার মাহেদী হাসান। তার মায়াবী ঘূর্ণি জালে আটকে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেছে রাজশাহী বিভাগের প্রথম ইনিংস। পুরো ইনিংসে ১৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩৮ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন এই অফস্পিনার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সফর আলী, যিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট। রাজশাহীর পক্ষে ওপেনার সাব্বির হোসেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান সংগ্রহ করলেও বাকি ব্যাটাররা ক্রিজে টিকতে পারেননি। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী দিনে ১ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান তুলেছে খুলনা। ক্রিজে অর্ধশতক তুলে নেওয়া আজিজুল হাকিম ৫৫ এবং কালাম সিদ্দিকী অলিন ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর রান টপকাতে এখন মাত্র কয়েক রান দূরে রয়েছে খুলনা।
এদিকে কক্সবাজার স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে প্রথম দিনে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান সংগ্রহ করেছে বরিশাল বিভাগ। দলের হয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেছেন মঈন খান, যিনি মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৯৭ রান। এছাড়া জাওয়াদ আবরার ৬৩, হাফিজুর রহমান ৪৪ এবং আব্দুল্লাহ সিফাত ৩৫ রান করেন। চট্টগ্রামের পক্ষে সফল বোলার হাসান মুরাদ ৪টি এবং মোহাম্মদ রুবেল ও আহমেদ শরিফ ২টি করে উইকেট লাভ করেন। দিনের শেষ ভাগে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলে দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম। দলটির পক্ষে মাহমুদুল হাসান জয় ২৯ এবং সাদিকুর রহমান ৪১ রানে অপরাজিত আছেন। বরিশালের সংগ্রহ পার করতে তাদের এখনও ২১১ রান প্রয়োজন।
সিলেটের একাডেমি গ্রাউন্ডে ময়মনসিংহ বিভাগের বিপক্ষে রান পাহাড় গড়ার পথে রয়েছে রংপুর বিভাগ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী ব্যাটার মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৭০ রান সংগ্রহ করেছে তারা। ২১১২ বলে ২৩টি চারের সাহায্যে সাজানো এই দীর্ঘ ইনিংসে মিম নিজের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও মিম ও ইকবাল হোসেনের ২০৮ রানের জুটি রংপুরকে শক্ত ভিত্তি দেয়। ইকবাল ৭৯ রান করে আউট হন। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুন ৮৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। দিনের শেষ সেশনে আজিজুল হাকিম রনির বলে আউট হওয়ার আগে দেড়শ রানের মাইলফলক পেরিয়ে যান মিম। আকবর আলী ৩০ রান করেন এবং দিন শেষে চৌধুরী রিজওয়ান ও আলাউদ্দিন বাবু অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
অপরদিকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেটের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত আধিপত্য বিস্তার করেছে ঢাকা বিভাগ। ওপেনার নাঈম শেখ চমৎকার সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত ১৩১ রান করেন, যদিও পরবর্তীতে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এর আগে আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। উদ্বোধনী জুটিতে নাঈমের সঙ্গে ১৫৫ রান যোগ করেন জিসান আলম, যিনি মাত্র ১৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে ৮১ রানে আউট হন। এরপর মার্শাল আইয়ুবের ব্যাট থেকে আসে ১১১ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮০ রান। দিন শেষ হওয়ার আগে ২ উইকেটে ৩৪৩ রান সংগ্রহ করেছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ৩২ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

মন্তব্য করুন