জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়, ১৪০ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়েকে সাধারণত সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মাঠের বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিল। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনেই জিম্বাবুয়ের বোলাদের তোপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। একপর্যায়ে শক্ত অবস্থানে থাকা দলটি হঠাৎ করেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৮টি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে গেছে সফরকারীরা।

রোববার সকালে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। হারারের উইকেটের সুবিধা নিয়ে শুরুতেই স্বাগতিক বোলাররা চেপে ধরেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৬ রান উঠতেই দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক সাজঘরে ফিরে যান। শুরুর এই ধাক্কা সামাল দিতে ক্রিজে জুটি বাঁধেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ ও বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তৃতীয় উইকেটে এই দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৭৭ রানের একটি লড়াকু পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ২ উইকেটে ১১৩ রান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। চমত্কার ব্যাটিং করতে থাকা মুমিনুল হক সৌরভ ১১টি বাউন্ডারির সাহায্যে ফিফটি তুলে নেন। তবে ৮১ বলে ৬০ রান করে মুমিনুল আউট হতেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ১১৩ রানে তার বিদায়ের পর শুরু হয় চরম নাটকীয়তা।

দলীয় স্কোরে আর মাত্র ৬ রান যোগ হতেই ভুল শট খেলে বিদায় নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। জিম্বাবুয়ের স্পিনারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৭৩ বলে মাত্র ১৯ রানের এক অতিধীরগতির ইনিংস খেলেন শান্ত। অধিনায়কের বিদায়ের পর মিডল অর্ডারের বাকি ব্যাটসম্যানরা উইকেটে আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন।

অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও তরুণ তাওহীদ হৃদয় পুরোপুরি ব্যর্থ হন। জিম্বাবুয়ের পেস ও সুইংয়ের সামনে তারা দাঁড়াতেই পারেননি। এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অমিত হাসানও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলাতে পারেননি, আউট হন ব্যক্তিগত মাত্র ৪ রানে।

শেষ দিকে লেজের সারির ব্যাটসম্যানরা জিম্বাবুয়ের বোলারদের কেবল উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন। দলীয় ১৪০ রানের মাথায় শেষ তিন ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও খালিদ হাসান দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ফলে ৪৭.২ ওভার খেলে মাত্র ১৪০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। অথচ মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে যেখানে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল দল, সেখানে মাত্র ২৭ রানের ভেতর শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচেই চরম ব্যাকফুটে চলে গেল বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন