ডি ককের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে নতুন টি-টোয়েন্টি মাইলফলক

দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একটি বড় কীর্তি গড়েছেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের হয়ে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস পেট্রিয়টসের বিপক্ষে ঝোড়ো সেঞ্চুরি করে তিনি টি-টোয়েন্টিতে নিজের শতকের সংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে বিরাট কোহলি ও ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে একই সারিতে জায়গা করে নিয়েছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা।

ম্যাচটিতে ডি কক ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫৭ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১৮৫.৯৬ স্ট্রাইক রেটে সাজানো এই ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে খেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টিতে নিজের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার আরেকটি বড় প্রমাণ রাখেন।

এই শতকের ফলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০টি সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে যুক্ত হলেন ডি কক। তার সঙ্গে একই সংখ্যক শতক রয়েছে ভারতের বিরাট কোহলি এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের। অর্থাৎ তিন তারকার ঝুলিতেই এখন টি-টোয়েন্টিতে ১০টি করে সেঞ্চুরি।

তবে এই তালিকায় ডি ককের ওপরে রয়েছেন আরও দুই ব্যাটার। শীর্ষে আছেন টি-টোয়েন্টির অন্যতম সফল ব্যাটার ক্রিস গেইল। ৪৬৩ ম্যাচে তার সেঞ্চুরি ২২টি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের বাবর আজম, ৩৫৯ ম্যাচে যার শতক ১৩টি।

ডি ককের সামনে অবশ্য খুব শিগগিরই আরও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অপেক্ষা করছে। টি-টোয়েন্টিতে ১৩ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করতে তার প্রয়োজন মাত্র ১৩৩ রান। সেই রান করতে পারলে ইতিহাসের নবম ব্যাটার হিসেবে এই অভিজাত তালিকায় জায়গা করে নেবেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ৪৫৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪৩৩ ইনিংস ব্যাট করে ডি ককের সংগ্রহ ১২ হাজার ৮৬৭ রান। তার ব্যাটিং গড় ৩১.৩০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৯.৭৮। ১০টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তার নামের পাশে রয়েছে ৮৪টি অর্ধশতক। টি-টোয়েন্টিতে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস অপরাজিত ১৪০ রান।

টি-টোয়েন্টিতে মোট রানের দিক থেকেও ডি কক বর্তমানে সর্বকালের নবম স্থানে রয়েছেন। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কায়রন পোলার্ড। ৭৫১ ম্যাচে ১৪ হাজার ৯৩৩ রান নিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহকারী। পোলার্ডের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৫১.১৭।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খেলছেন ডি কক। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দ্রুত রান তোলার দক্ষতা এবং উইকেটের পেছনে নির্ভরযোগ্য উপস্থিতি তাকে টি-টোয়েন্টির অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।

বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের হয়ে করা এই সেঞ্চুরি তাই শুধু একটি ম্যাচের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; ডি ককের দীর্ঘ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতারও প্রতিফলন। ১৩ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ১৩৩ রান দূরে থাকা এই ব্যাটার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

মন্তব্য করুন