অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক ২০২৫ সালের টেস্ট ক্রিকেটে এক অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড গড়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে নাম লেখালেন। যদিও চতুর্থ অ্যাশেজ টেস্টে ইংল্যান্ড জয়ী হলেও সিরিজে ব্যবধান কমিয়েছে, তবে ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে স্টার্কের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বোলিং-সহায়ক উইকেটে খেলা হলেও স্টার্ক ৩৫ বছর বয়সে চলতি বছর লাল বলের ক্রিকেটে ৫৫ উইকেট শিকার করেন। এই কীর্তি এমনভাবে সম্পন্ন হয় যে, ন্যূনতম ৫০ উইকেট শিকার করা বোলারদের মধ্যে তিনি এক বছরে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেট (২৮.৩) ধরে রাখার রেকর্ড স্থাপন করেছেন। এতদিন এই রেকর্ডের ধারক ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিস, যিনি ১৯৯৩ সালে ৭ টেস্টে ৫৫ উইকেট নিয়ে ২৯.৫ স্ট্রাইকরেট গড়েছিলেন।
স্টার্কের অর্জনকে আরও পরিষ্কারভাবে বোঝাতে নিচের টেবিলটি দেখুন:
| বোলার | বছর | টেস্ট সংখ্যা | উইকেট | স্ট্রাইকরেট | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| মিচেল স্টার্ক | ২০২৫ | ১১ | ৫৫ | ২৮.৩ | এক বছরে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের বিশ্বরেকর্ড |
| ওয়াকার ইউনিস | ১৯৯৩ | ৭ | ৫৫ | ২৯.৫ | পূর্বের রেকর্ডধারী |
| শেন ওয়ার্ন | ২০০৫ | ১৫ | ৯৬ | ৩৫.২ | সর্বাধিক উইকেট (এক পঞ্জিকাবর্ষে) |
| মুত্তিয়া মুরালিধরন | ২০০৬ | ১১ | ৯০ | ৩২.৭ | টেস্ট উইকেট শীর্ষস্থানীয় |
যদিও স্টার্ক ১১ টেস্টে এই কীর্তি গড়েছেন এবং ইউনিস মাত্র ৭ টেস্টে করেছেন, তবে স্ট্রাইকরেটের বিচারে ২০২৫ সালের টেস্ট ক্রিকেটে স্টার্কের পারফরম্যান্স অনন্য। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক উইকেট শিকার তালিকায় স্টার্কের অবস্থান শীর্ষে না হলেও স্ট্রাইকরেটের দিক থেকে এই বছরটি তার জন্য ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
অন্যদিকে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৮০ বা তার বেশি উইকেট শিকার করার কৃতিত্ব রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ডেনিস লি (৮৫), দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যালান ডোনাল্ড (৮০) এবং মুরালিধরনের (৮০) নামের সঙ্গে। তবে স্টার্কের ২০২৫ সালের পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, মাত্র ১১ ম্যাচে তার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা কতটা চমকপ্রদ।
২০২৫ সালের টেস্ট মরসুম শেষ হওয়ার পর ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া সিডনি টেস্ট নতুন বছরে পড়বে। ফলে ইংল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজের এই পঞ্জিকাবর্ষে স্টার্কের বিশ্বরেকর্ডই অন্যতম প্রধান আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।