চলতি এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত করের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী উইং। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানালেও স্পষ্ট করেছেন, এটি বোর্ডের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।
বাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, হারমানপ্রীতের সঙ্গে করমর্দন না করার সিদ্ধান্ত নিগার নিজেই নিয়েছেন। এ বিষয়ে বোর্ডের কোনো নির্দেশনা ছিল না। তিনি বলেন, ক্রিকেট বিশ্বকে একত্র করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম এবং বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। সেই নীতির অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক চায় বিসিবি।
তাঁর ভাষায়, নিগার যা করেছেন, সেটি পুরোপুরি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, সেমিফাইনালের পর দুই অধিনায়কের করমর্দন না হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখছে না বিসিবি।
তবে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দলের সাম্প্রতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ এটিকে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর করমর্দন না করার ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের নারী ক্রিকেট দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন তারও আগে থেকে চলে আসছে।
এর পেছনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ২০২৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত নারী দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। ওই সিরিজে আম্পায়ারিং নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন হারমানপ্রীত। তিনি আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছিলেন। সিরিজটি ড্র হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও সেই বিতর্কের প্রভাব দেখা যায়।
পুরস্কার বিতরণীর সময় দুই দলের খেলোয়াড়েরা যখন মঞ্চে ছিলেন, তখন হারমানপ্রীত আম্পায়ারদেরও সেখানে ডাকার মতো একটি অঙ্গভঙ্গি করেন। তাঁর সেই আচরণকে অনেকে ওই সিরিজের আম্পায়ারিং নিয়ে তাঁর অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখেছিলেন। ঘটনাটি দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।
এরপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের নারী দল মুখোমুখি হলে ম্যাচের বাইরের পরিবেশেও সেই পুরোনো ঘটনার ছাপ দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চ কিংবা এশীয় প্রতিযোগিতা—দুই দল একাধিকবার মুখোমুখি হলেও অধিনায়কদের মধ্যে স্বাভাবিক করমর্দনের দৃশ্য আর নিয়মিত দেখা যায়নি। ফলে এবারের এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের ঘটনাটি একেবারে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
নিগারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান একদিকে অধিনায়কের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে বোর্ডের পক্ষ থেকে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন।
ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠের লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু কোনো সিরিজে বিতর্ক, আম্পায়ারিং নিয়ে অভিযোগ কিংবা খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলে তার প্রভাব পরবর্তী মুখোমুখি লড়াইয়েও পড়তে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের নারী ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সম্পর্ক সেই বাস্তবতারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের করমর্দন-বিতর্ক তাই শুধু একটি ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২০২৩ সালের সিরিজ থেকে চলে আসা অস্বস্তি এবং দুই দলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। তবে বিসিবির বক্তব্য পরিষ্কার—নিগারের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত, এটি বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত নয়।