পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে এসেছে দারুণ সুখবর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ব্যাট ও বল উভয় বিভাগে দলের কিছু খেলোয়াড় উজ্জ্বল পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন, যা নতুন হালনাগাদ আইসিসি র্যাংকিংয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছেন, পাকিস্তানের ক্রিকেটে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
অলরাউন্ডার বিভাগে সাইম আইয়ুবের রেটিং ছিল ৪৯১ পয়েন্ট, যা জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। একই বিভাগে মোহাম্মদ নেওয়াজ উঠে এসেছেন সপ্তম স্থানে, যা পাকিস্তানের জন্য আরও ভালো খবর।
বোলারদের মধ্যে আবরার আহমেদ অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৬ উইকেট শিকার করে তার রেটিং বেড়ে হয়েছে ৭৪৮ পয়েন্ট, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। বর্তমানে তার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে, কেবল ভারতের বরুণ চক্রবর্তীর পিছনে। পাকিস্তানের প্রধান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি যদিও সাম্প্রতিক সিরিজে খুব বেশি সফল হননি, তবুও তিনি শীর্ষ ২০-এ ফিরে এসেছেন।
ব্যাটিং বিভাগে পাকিস্তানের অবস্থান এখনও চ্যালেঞ্জিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করেও সাইম আইয়ুব ও সালমান আলী আগা শীর্ষ ২০-এ জায়গা করতে পারেননি। দলীয় ব্যাটিং তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান, যিনি সম্প্রতি বিপিএলে শিরোপা জিতেছেন। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তার পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক ছিল।
দলের র্যাংকিং সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিভাগ | পাকিস্তান খেলোয়াড় | রেটিং/অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| অলরাউন্ডার | সাইম আইয়ুব | শীর্ষ (১ পয়েন্ট ব্যবধানে সিকান্দার রাজার উপরে) | ফের শীর্ষে ফিরেছেন |
| অলরাউন্ডার | মোহাম্মদ নেওয়াজ | সপ্তম | উন্নতি হয়েছে |
| বোলার | আবরার আহমেদ | দ্বিতীয় (৭৪৮ পয়েন্ট) | ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রেটিং |
| বোলার | শাহিন শাহ আফ্রিদি | ১৯ | শীর্ষ ২০-এ ফেরার চেষ্টা সফল |
| ব্যাটসম্যান | সাহিবজাদা ফারহান | ৭ | সাম্প্রতিক সিরিজে কম রান, তবুও শীর্ষে |
দলগত র্যাংকিংয়ে ভারত এখনও পাকিস্তানের অনেক এগিয়ে রয়েছে। ভারতের দলীয় রেটিং ২৭৩ পয়েন্ট, যেখানে পাকিস্তানের রেটিং ২৩৮ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, পাকিস্তানের সরকারের নির্দেশে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইম আইয়ুব ও আবরার আহমেদের মতো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে, যা বিশ্বকাপে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দলের অলরাউন্ড ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সীমিত ওভার ক্রিকেটে পাকিস্তানের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়েছে।