টসে দুই অধিনায়ক যখন বললেন, পিচ ১৬০ রানের বেশি সমর্থন করবে না—তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ম্যাচটি হবে স্পিনারদের লড়াই। ঠিক সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হলো। শ্রীলঙ্কা ইনিংসের প্রথম ৮–১০ ওভারে বেশ দাপট দেখায়। কামিল মিশারার দুর্দান্ত ব্যাটিং দর্শকদের আশ্বাস দিচ্ছিল—আজ হয়তো শ্রীলঙ্কাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেবে। কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হলো স্পিনের দখলদারিত্ব।
মোহাম্মদ নেওয়াজ প্রথম আঘাত হানে। তারপর আবরার ও সাইম মিলে শ্রীলঙ্কাকে এমনভাবে চেপে ধরেন যে দলের রানের চাকা থেমে যায়। উইকেটের ওপর বল ঠিকঠাক গ্রিপ করছিল, লেংথ ছিল নিখুঁত—ফলে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা ভুল শট খেলতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে এমন অবস্থা তৈরি হয় যে দলটি আর রানের গতি বাড়াতেই পারেনি। শেষ পর্যন্ত অলআউট হতে হয় মাত্র ১১৪ রানে।
টার্গেট ছোট হলেও পাকিস্তান জানত কাজটা সহজ হবে না। ইনিংস বিরতির সময় নেওয়াজই বলেন, ‘উইকেটে স্পিনারদের জন্য অনেক কিছু আছে’। তাই পাকিস্তান শুরু থেকেই ঝুঁকি না নিয়ে সেট হতে সময় নেয়। ওপেনাররা কাজটা সহজ করে দেন ২৩ ও ৩৬ রানের ইনিংসে। তবে রত্নানায়েকে ও হাসারাঙ্গার স্পিন পাকিস্তানের ওপর সামান্য চাপ সৃষ্টি করলে দায়িত্ব নেন বাবর আজম।
তার ইনিংস ছিল একেবারেই সংযত—ঝুঁকি কম, রান সংগ্রহ স্থির, আর প্রয়োজনের মুহূর্তে বোর্ড ঘোরানোর ক্ষমতা। তাঁর ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংসই দলকে যত্নের সঙ্গে জয়ের কাছে নিয়ে আসে। শেষতক ১৮.৪ ওভারে পাকিস্তান লক্ষ্য ছুঁয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।
ম্যাচসেরা স্বীকৃতি পেয়ে নেওয়াজ বলেন, উইকেট পুরোপুরি তার পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই ছিল। শ্রীলঙ্কার দিক থেকে একমাত্র উজ্জ্বল দিক ছিল কামিল মিশারার ৫৯ রান। কিন্তু দলের বাকিদের ব্যর্থতা তার ইনিংসকে মূল্যহীনই করে তোলে।