পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়ের ইতি টানলেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক। প্রায় এক দশক ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—পিএসএলের মাঠে আর ব্যাট-বল হাতে নামবেন না তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ৪৩ বছর বয়সী মালিক নিজের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগঘন বার্তায় শোয়েব মালিক উল্লেখ করেন, পিএসএলের গত ১০ বছরে মাঠের লড়াই, ড্রেসিংরুমের বন্ধন এবং মাঠের বাইরের অসংখ্য স্মৃতি আজীবন তার হৃদয়ে গাঁথা থাকবে। তবে সময়ের প্রয়োজনে নতুন অধ্যায়ে পা রাখাটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার করে দেন, ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না। ভবিষ্যতে কোচিং, মেন্টরিং কিংবা প্রশাসনিক কোনো ভূমিকায় হলেও ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা তার অটুট থাকবে।
পিএসএলের ইতিহাসে শোয়েব মালিক ছিলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন। করাচি কিংস, মুলতান সুলতানস, পেশোয়ার জালমি এবং কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স—চারটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে তিনি খেলেছেন সমান দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে। ব্যাট হাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হাল ধরেছেন, তেমনি নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তুলতেও রেখেছেন বড় ভূমিকা।
পিএসএলে শোয়েব মালিকের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মৌসুম | ১০ |
| ম্যাচ | ৯৩ |
| মোট রান | ২,৩৫০ |
| ব্যাটিং গড় | ৩৩.০৯ |
| স্ট্রাইক রেট | ১২৭.৭৮ |
| অর্ধশতক | ১৫ |
মালিকের অবসরের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন পিএসএল নিজেই পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আসন্ন মৌসুম থেকে লিগে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি নতুন দল—হায়দরাবাদ ও সিয়ালকোট। এর ফলে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে আটে, প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিয়ালকোট দলের ঘোষণার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ফিরে এসেছে শোয়েব মালিকের নেতৃত্বে গড়া ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি দল ‘সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নস’-এর সোনালি দিনগুলোর স্মৃতি, যারা এক সময় পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপট দেখিয়েছিল।
সব মিলিয়ে, খেলোয়াড় হিসেবে পিএসএল থেকে বিদায় নিলেও শোয়েব মালিকের ক্রিকেট অধ্যায় যে এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, সেটাই স্পষ্ট। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পিএসএলের একাদশ আসরে মাঠে তাকে দেখা না গেলেও, লিগ ও ক্রিকেটাঙ্গনে ভিন্ন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় শিগগিরই তাকে দেখা যাবে—এমন আশাই করছেন ভক্ত ও বিশ্লেষকেরা।