বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন ডেভ হোয়াটমোর। প্রায় দুই দশক আগে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রধান কোচের পথ থেকে বিদায় নিলেও এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তার অবদান আজও স্মরণীয়। দীর্ঘ দিন পর আবারও সেই স্মৃতির শহর ঢাকায় ফিরেছেন এই প্রথিতযশা অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তবে এবার তার পরিচয় আলাদা। তিনি এসেছেন অ্যাসোসিয়েট দেশ মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ও হেড কোচ হিসেবে। পুরোনো আঙিনায় ফিরতে পেরে যেমন আবেগ ছুঁয়ে গেছে তাকে, তেমনি নিজের উদীয়মান দলের উন্নতির জন্য এই সফরকে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন তিনি।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হোয়াটমোর শুরুতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিসিবির সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি জানান, চলতি মাসের শেষভাগে তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। সেই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে এমন শক্তিশালী কন্ডিশনে খেলতে পারা তাদের ক্রিকেটারদের দক্ষতা ও মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্ব ক্রিকেটে মালয়েশিয়া এখনো অনুন্নত ও উদীয়মান দলগুলোর একটি, যাদের বর্তমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং ২৫। টেস্ট খেলুড়ে বড় কোনো দলের সাথে খেলার সুযোগ তাদের খুব একটা হয়ে ওঠে না। ফলে বিসিবির আমন্ত্রণে আয়োজিত এই সফরকে নিজেদের ক্রিকেটের মান উন্নত করার সেরা হাতিয়ার বলে মনে করছেন তিনি। নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, বিসিবি হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি এবং বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ম্যাচে লড়বে মালয়েশিয়ার ক্রিকেটাররা।
ইতোমধ্যে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে এইচপি দলের মুখোমুখি হয়ে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে মালয়েশিয়া। শুরুতে বল হাতে প্রতিপক্ষকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। তবে এত বড় হারের পরও বিন্দুমাত্র হতাশ নন প্রবীণ এই গুরু। উল্টো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে এমন ধাক্কা খাওয়াকে দলের উন্নতির মূল নিয়ামক হিসেবে দেখছেন তিনি।
হোয়াটমোর সহজ ভাষায় স্পষ্ট করেন, তুলনামূলক দুর্বল বা সমমানের দলের বিপক্ষে খেলে নিজেদের আসল ঘাটতিগুলো ধরা পড়ে না। নিজেদের কমফোর্ট জোন বা আরামদায়ক অবস্থান থেকে বের হয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেই কেবল সত্যিকারের শেখা সম্ভব। বিসিবি এইচপি দলে ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন পরিপক্ব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অলরাউন্ডার রয়েছেন, যাদের বিপক্ষেই আসল পরীক্ষা হচ্ছে মালয়েশিয়ার। প্রথম ম্যাচে পরাজয় সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের ১০টি উইকেট তুলে নেওয়া এবং ভালো ফিল্ডিং উপহার দেওয়ায় শিষ্যদের পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে কথা বলেন ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কাকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কোচ। বিশেষ করে উদীয়মান গতিদানব নাহিদ রানার ফিটনেস ও ইনজুরি নিয়ে নিজের মত জানান তিনি। নাহিদ রানাকে দারুণ সম্ভাবনাময় এক সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতিময় এই বোলারকে এখন দল মিস করছে, তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদে সার্ভিস দিতে হলে শতভাগ ফিটনেস নিশ্চিত করেই তার মাঠে ফেরা উচিত।