প্রথমবারের মতো নেপালের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে আগামী ২০২৭ সালের মার্চে দেশটি সফর করবে বাংলাদেশ। সফরে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবির প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৬, ২৮ ও ৩০ মার্চ তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজের সবগুলো ম্যাচই হবে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। এর মধ্য দিয়ে নেপালের মাটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেবে বাংলাদেশ।
শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, এই সফরের সঙ্গে মানবিক একটি বার্তাও যুক্ত থাকছে। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে সিরিজটি তাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিরিজ থেকে অর্জিত লভ্যাংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করার কথাও জানিয়েছে বিসিবি।
সিরিজ আয়োজন এবং দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর মধ্যে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় বুধবার বিসিবি কার্যালয়ে যান রাষ্ট্রদূত ভাণ্ডারী। সেখানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নেপাল সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনার পাশাপাশি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে নেপালের ক্রিকেটের উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা উঠে আসে।
বিসিবি জানিয়েছে, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। এই কঠিন সময়ে ক্রিকেটের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ হিসেবেই সিরিজটিকে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাধুলার বাইরে মানবিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও সফরটি ভূমিকা রাখতে পারে।
নেপালের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি। দেশটির ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত সহযোগিতা ও সমর্থনের পাশাপাশি দুই দেশের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলের সফর বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কার্যক্রম, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, কোচিং ও কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ক্রিকেট কাঠামো ও খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও যোগাযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রিকেট সম্পর্ক এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তৃত হলেও নেপালের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখনো হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের মার্চের এই সফর দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু প্রথমবার নেপালের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে না, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত হবে। ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবেও সফরটিকে দেখছে দুই পক্ষ।