ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) চলমান আসরে শুরু থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশ জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে। কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ২০৬ রানের পাহাড়সমান সংগ্রহ গড়েও জয়ের দেখা পেল না গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা কিংসম্যানের দুর্দান্ত ব্যাটিং ঝড়ের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হয় মিরাজের দল। ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দলের পরাজয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বোলিং পারফরম্যান্সেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন এই অফ স্পিনার।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটাররা চড়াও হয়ে খেলেন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর। দলের হয়ে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান হার্ডহিটার ব্যাটার শিমরন হেটমায়ার। মাত্র ৪৫ বল মোকাবিলা করে তিনি অপরাজিত ১০২ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন দলকে। তার সঙ্গে শেই হোপের দায়িত্বশীল ৪০ রান এবং কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের মারমুখী ২৯ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ওভার শেষে ২০৬ রানের বিশাল পুঁজি পায় গায়ানা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান যেকোনো দলের জন্যই ডিফেন্ড করার মতো যথেষ্ট বড় সংগ্রহ ছিল।
তবে বোলিং ইনিংসের শুরুটা দলের জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই স্পিন আক্রমণ সামলানোর জন্য মেহেদী হাসান মিরাজকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন গায়ানা অধিনায়ক ইমরান তাহির। উইকেটে থাকা বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা মাঠে পুরোপুরি উল্টো ফল বয়ে আনে। নিজের করা প্রথম ওভারেই প্রতিপক্ষের ব্যাটার মা’জ সাদাকাতের ব্যাট থেকে দুটি ছক্কা ও একটি চার হজম করতে হয় মিরাজকে। শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি তিনি।
পরবর্তী ওভারগুলোতেও মারমুখী ব্যাটারদের চড়াও হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে আরও একটি ছক্কা হজম করেন মিরাজ। এরপর ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আরও দুটি ছক্কা নিজের নামের পাশে যুক্ত করেন। সব মিলিয়ে চার ওভারের কোটা পূর্ণ করে কোনো উইকেট না পেয়ে ৪৩ রান খরচ করতে হয় তাকে। চলমান টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে গায়ানার বোলিং লাইনআপের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন মিরাজ। এর আগের মাত্র চার ম্যাচেই তিনি শিকার করেছিলেন ৯টি উইকেট। কিন্তু টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে এসে এমন খরুচে বোলিংয়ের শিকার হওয়ায় বড় বিপদে পড়ে দল। গায়ানার বোলারদের মধ্যে একমাত্র ডুয়েইন প্রিটোরিয়াস ৩৭ রান খরচ করে দুটি উইকেট শিকার করতে সক্ষম হন। বাকি বোলারদের প্রায় প্রত্যেকেই ওভারপ্রতি দশ রানের বেশি করে খরচ করেন।
বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জ্যামাইকা কিংসম্যানের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। জ্যামাইকার পক্ষে মা’জ মাত্র ১৭ বলে বলের মারমুখী ইনিংসে ৪১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়া কেসি কার্টি ৫৬ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন। দলের জয়ের পথ সহজ করতে কার্ক ম্যাকেঞ্জি ৩৪ রান এবং সাইম আইয়ুব ২৩ রান যোগ করেন। তবে ম্যাচের আসল পার্থক্য গড়ে দেন রভম্যান পাওয়েল। তিনি মাত্র ১৭ বলের মুখোমুখি হয়ে ঝোড়ো ৪০ রানের একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে অনায়াসেই জ্যামাইকাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এই পরাজয়ের ফলে এবারের সিপিএল আসরে গায়ানার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও এমন একটি হার দিয়ে আসর শেষ করতে হলো মেহেদী হাসান মিরাজকে।