ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে নতুন ‘বেস্ট অ্যাটিটিউড অ্যাওয়ার্ড’ চালু

ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাদের মানসিকতা ও শৃঙ্খলাকে উৎসাহিত করতে নতুন এক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। গত বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ে সফরে থাকা ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্তর্বর্তিকালীন প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণ দলের ড্রেসিংরুমে ‘বেস্ট অ্যাটিটিউড অ্যাওয়ার্ড’ বা সেরা আচরণের এই নতুন পুরস্কারটি চালু করেন। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রান বা উইকেটের হিসাব থেকে বেরিয়ে এসে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

সাধারণত ক্রিকেট মাঠে যেকোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার নির্ভর করে কে কত রান করলেন কিংবা বোলিংয়ে কয়টি উইকেট শিকার করলেন তার ওপর। কিন্তু এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে স্কোরকার্ডের সেই প্রচলিত হিসাবকে সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা, মানসিকতা এবং শৃঙ্খলার মতো বিষয়গুলোকে। দলের ভেতরে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে এবং খেলোয়াড়দের ছোটখাটো অবদানগুলোকে স্বীকৃতি দিতেই মূলত এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে এই বিশেষ পুরস্কারের প্রথম বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হন তরুণ ব্যাটার তিলক ভার্মা। ওই ম্যাচে তিনি একটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছিলেন, একটি চার মেরেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত দলের জয়সূচক রানটি এসেছিল তার ব্যাট থেকেই। বাইরে থেকে দেখলে এই পারফরম্যান্স হয়তো খুব বড় কিছু মনে হবে না। কিন্তু লক্ষ্মণ এই পুরস্কারের রূপরেখা এমনভাবে তৈরি করেছেন, যাতে সাধারণ স্কোরকার্ডের পাতায় সাধারণত যে সূক্ষ্ম ও নিঃস্বার্থ অবদানগুলো ঢাকা পড়ে যায়, সেগুলো সামনে চলে আসে।

এই পুরস্কার প্রবর্তনের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভিভিএস লক্ষ্মণ জানান যে, একজন খেলোয়াড়ের ইতিবাচক মানসিকতা এবং মনোভাব তার দারুণ সব দক্ষতার সঙ্গেই সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ। টিম ম্যানেজমেন্ট এক বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই সিরিজের তিনটি ম্যাচের ফলাফল শুধু ফিল্ডিং, বোলিং বা ব্যাটিংয়ের গড় দিয়ে মাপা হবে না। এর পাশাপাশি মাঠের ভেতরের এবং বাইরের ইতিবাচক মানসিকতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে।

দলের কোন ক্রিকেটার এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সাপোর্টিং স্টাফদের ওপর। চলমান এই সিরিজে এই গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের কাজটি করছেন দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হর্ষ এবং পারফরম্যান্স কোচ জয়। তিলক ভার্মার কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে কোচ হর্ষ জানান যে, এই তরুণ ক্রিকেটার শুধু ম্যাচের দিনই নিজেকে প্রস্তুত করেননি, বরং অনুশীলনের প্রতিটি মুহূর্তে চরম ক্ষিপ্রতা ও একাগ্রতা দেখিয়েছেন, যা অনেক সময় বাড়তি মনে হলেও দলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ছিল। পুরস্কারটি হাতে পাওয়ার পর তিলক ভার্মা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন যে, তিনি সবসময় মাঠে নিজের শতভাগ নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মাঠের বাইরে নেওয়া প্রস্তুতিগুলোই মূলত তাকে মাঠে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে সাহায্য করে।

মন্তব্য করুন